ইউরোপজুড়ে বয়ে চলা তাপপ্রবাহ ইতালিতে আরও তীব্র হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার (২৩ জুন) দেশের ১৫টি শহরের জন্য রেড অ্যালার্ট জারি হয়েছে। এর অর্থ, অতিরিক্ত গরম এখন সুস্থ ও কর্মক্ষম মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সতর্কতার আওতায় থাকা বড় শহরগুলোর মধ্যে আছে রোম, মিলান, ফ্লোরেন্স, বোলোনিয়া, তুরিন ও ভেনিস, যেখানে গরমের সঙ্গে বাড়তি আর্দ্রতা অস্বস্তি বাড়িয়েছে। সম্প্রতি ফ্লোরেন্সে তাপমাত্রা উঠেছে ৩৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে; পো উপত্যকা, লাজিও ও উমব্রিয়ার বহু এলাকায় পারদ ৩৬ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে। রাতেও স্বস্তি নেই—বহু জায়গায় রাতের তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রির ওপরেই থাকছে, শহরে তা থাকছে ২৫ ডিগ্রির কাছাকাছি।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপের বড় অংশ এখন কয়েক দশকের অন্যতম শক্তিশালী তাপপ্রবাহের কবলে, যা ২০০৩ সালের ভয়াবহ তাপদাহের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। উত্তর আফ্রিকার অতি উষ্ণ বাতাস ও শক্তিশালী উচ্চচাপ বলয়ের প্রভাবে ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বেড়েছে। ফ্রান্স ও জার্মানির ওপর থাকা উচ্চচাপ বলয়টি সামনের কয়েক দিনে পূর্বে সরে ইতালির ওপর আরও জোরালো প্রভাব ফেলবে বলে তাদের ধারণা।
পূর্বাভাস বলছে, ২৮ জুন থেকে জুনের শেষ ও জুলাইয়ের শুরুর এই সময়ে ইতালির নানা অঞ্চলে পারদ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠতে পারে, কোথাও ছাড়িয়েও যেতে পারে। বেশি ঝুঁকিতে তুসকানি, উমব্রিয়া, লাজিও ও সার্ডিনিয়ার পাশাপাশি পো উপত্যকার মধ্য ও পূর্বাঞ্চল। পশ্চিম ইউরোপে গরম কিছুটা কমলেও ইতালিতে তা নতুন করে বাড়বে; জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে তাপপ্রবাহ খানিকটা দুর্বল হতে পারে।
প্রতিবেশী ফ্রান্সের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। দেশটির আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৭ সালের পর এবারই সবচেয়ে উষ্ণ রাত কাটিয়েছে ফ্রান্স; ৫৪টি বিভাগে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি আছে, কোনো কোনো জায়গায় পারদ ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থদের বাড়তি সতর্ক থাকতে বলেছেন। পর্যাপ্ত পানি পান, সরাসরি রোদ এড়ানো এবং দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে দরকার ছাড়া বাইরে না যাওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।






