বিশেষ দিন, উৎসব কিংবা ঘর সাজানোর জন্য মোমবাতি জ্বালানোর চল বেশ পুরোনো। বর্তমানে নানা রং, নকশা ও সুগন্ধের মোমবাতি ঘরের সৌন্দর্যবৃদ্ধিতেও বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু মোমবাতি জ্বালানো শেষ হলে অবশিষ্ট মোমের টুকরোগুলোকে অনেকেই অপ্রয়োজনীয় ভেবে ফেলে দেন। অথচ এই টুকরো দিয়েই তৈরি করা যায় নতুন মোমবাতি, ঘরে ছড়ানো যায় সুগন্ধ; আটকে যাওয়া জিপার সচল করতেও কাজে লাগানো যায় অবশিষ্ট মোম।

জাগো নিউজ লাইফস্টাইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব উপায়ে অপচয় কমানোর পাশাপাশি দৈনন্দিন কিছু প্রয়োজনও সহজে মেটানো সম্ভব।

অবশিষ্ট মোমে সুগন্ধি ওয়াক্স মেল্ট

বিশেষ দিনে সুগন্ধি মোমবাতি জ্বালানোর পর কিছুটা মোম অবশিষ্ট থাকলে তা দিয়ে তৈরি করা যায় ওয়াক্স মেল্ট। প্রথমে অবশিষ্ট মোম থেকে পোড়া সলতে ও ময়লা সরিয়ে নিতে হবে। এরপর নিরাপদ পদ্ধতিতে মোম গলিয়ে পছন্দমতো নকশার সিলিকন ছাঁচে ঢেলে দিতে হবে। ঠান্ডা হয়ে জমে গেলে ছাঁচ থেকে বের করে সংরক্ষণ করতে হবে। পরে ওয়াক্স ওয়ার্মারে ব্যবহার করে ঘরে ছড়িয়ে দেওয়া যাবে মনোরম সুগন্ধ। বিভিন্ন রঙের মোম একসঙ্গে ব্যবহার করলে তৈরি হবে সুন্দর নকশাও।

ছোট মোমবাতি বানানোর সহজ উপায়

পুরোনো মোমের টুকরো দিয়ে সহজেই তৈরি করা যায় নতুন ছোট মোমবাতি। এজন্য অবশিষ্ট মোম পরিষ্কার করে গলিয়ে নিতে হবে। এরপর একটি ছোট তাপসহনশীল পাত্রের মাঝখানে সলতে বসিয়ে তার চারপাশে গলানো মোম ঢেলে দিতে হবে। মোম সম্পূর্ণ জমে গেলে তৈরি হয়ে যাবে নতুন মোমবাতি। এগুলো ঘর সাজানো, বিশেষ দিনের আয়োজন কিংবা পুজোর কাজে ব্যবহার করা যায়।

মোম গলানোর সময় সরাসরি আগুনে না বসিয়ে ডাবল বয়লার পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে এবং গরম মোম সাবধানে নাড়াচাড়া করতে হবে।

আটকে যাওয়া জিপার সচল করতে

জামা, ব্যাগ কিংবা জ্যাকেটের জিপার মাঝেমধ্যে আটকে যায়। অনেক টানাটানি করেও তা খোলা যায় না। এমন পরিস্থিতিতে জিপারের দাঁতে সামান্য অবশিষ্ট মোম ঘষে দেখতে পারেন। মোম ঘর্ষণ কমাতে সাহায্য করায় জিপারের চলাচল সহজ হতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে জিপারটি কয়েকবার ওঠানামা করাতে হবে।

তবে অতিরিক্ত মোম ব্যবহার করা যাবে না, কারণ এতে কাপড়ে দাগ পড়তে পারে। দামি বা বিশেষ ধরনের পোশাকে ব্যবহারের আগে আড়ালে ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।

উপহারের খামে নতুনত্ব

জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী কিংবা উৎসবে উপহার দেওয়ার সময় মোড়কে একটু আলাদা ছোঁয়া আনতে পারেন অবশিষ্ট মোম দিয়ে। মোম গলিয়ে খামের মুখে সিলের মতো নকশা তৈরি করলে সাধারণ খামও হয়ে উঠবে আকর্ষণীয়। পছন্দের রঙের মোম ব্যবহার করে তার ওপর নকশা বা ছাপ তৈরি করা যায়। এতে উপহারের সাজে আসবে ব্যক্তিগত ও নান্দনিক ছোঁয়া। তবে গরম মোম ব্যবহারের সময় খেয়াল রাখতে হবে, যাতে কাগজ পুড়ে না যায়।

আলমারিতে মিষ্টি সুগন্ধ

সুগন্ধি মোমবাতির অবশিষ্ট মোম দিয়ে তৈরি করা যায় ছোট সুগন্ধি ওয়াক্স ট্যাবলেট। মোম গলিয়ে ছোট ছাঁচে ঢেলে জমিয়ে নিতে হবে। এরপর সেগুলো আলমারির ভেতরে একটি ছোট পাত্রে রেখে দেওয়া যাবে। এতে আলমারিতে হালকা সুগন্ধ ছড়াতে পারে।

তবে মোম সরাসরি পোশাকের সংস্পর্শে রাখা যাবে না, কারণ এতে কাপড়ে দাগ পড়তে পারে। পাশাপাশি শিশু ও পোষা প্রাণীর নাগালের বাইরেও রাখতে হবে।

অবশিষ্ট মোমবাতির টুকরোকে আর অপ্রয়োজনীয় ভেবে ফেলে দেওয়ার দরকার নেই। সামান্য যত্ন ও সৃজনশীলতায় এগুলো দিয়ে তৈরি করা যায় নতুন সাজসজ্জার উপকরণ, আবার সমাধান করা যায় দৈনন্দিন কিছু ছোটখাটো সমস্যাও। তাই পরেরবার মোমবাতি জ্বালানোর পর অবশিষ্ট অংশ ফেলে দেওয়ার আগে ভেবে দেখুন, সেটি কীভাবে আবার কাজে লাগানো যায়।

তথ্যসূত্র: দ্য স্প্রুস, গুড হাউজকিপিং, এসএকেওয়াই

Source: জাগো নিউজ২৪