আন্দামান সাগরে মালয়েশিয়াগামী একটি যাত্রীবাহী ট্রলার ডুবে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার অন্তত ১২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। বাঁশখালী উপজেলার পুইছড়ি ইউনিয়নেরও ৫ জনের নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া গেছে। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ৯ এপ্রিলের এ ট্রলারডুবিতে এখনো ২৫০ যাত্রী নিখোঁজ।

পেকুয়ার নিখোঁজদের মধ্যে রাজাখালী ইউনিয়নের মিয়াপাড়ার আব্দু রহিমের ছেলে মো. বেলাল, একই এলাকার আহমদ ছবির ছেলে মো. এহসান ও আব্দুল মালেকের ছেলে রহিম; হাজিরপাড়ার শহিদুল ইসলামের ছেলে সোহেল ও নুরুল আমিনের ছেলে রাশেদুল ইসলাম রয়েছেন। আরও আছেন নতুন ঘোনা গোদারপাড়ার বাদশা মিয়ার ছেলে রহুল কাদের ও শহিদুল্লাহর ছেলে মানিক, আব্দুল হক কোম্পানির এক আত্মীয় এবং টৈটং ইউনিয়নের পেন্ডারপাড়া ও হিরাবুনিয়াপাড়ার দুজন।

পরিবারগুলো জানায়, ৩ ও ৬ এপ্রিল আলাদাভাবে সাগরপথে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা দেন এই যুবকেরা; ৯ এপ্রিল ট্রলারটি ডুবে যায়। নিখোঁজদের কেউ লবণশ্রমিক, কেউ জেলে, কেউ ছিলেন বেকার; অনেকে পরিবারকে না জানিয়েই দালালের ফাঁদে পা দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এ যাত্রায় নামেন।

নিখোঁজ এহসানের মা মোহসেনা বেগম জানান, ট্রলারে ওঠার পর ছেলে পৌঁছে ফোন দেবে বলেছিল, সেই ফোন আর আসেনি। সোহেলের বাবা শহিদুল ইসলাম বলেন, ছেলেই ছিল পরিবারের একমাত্র রোজগেরে; রহিমের স্ত্রী আজবাহার বেগম ছোট সন্তানদের নিয়ে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার কথা জানান। রাশেদুল ইসলামের নানী ছফুরা খাতুন নাতিকে ফিরিয়ে দিতে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছেন।

অভিযোগ উঠেছে, টেকনাফকেন্দ্রিক একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচার চক্র দীর্ঘদিন ধরে পেকুয়া ও বাঁশখালীর দরিদ্র ও হতাশ যুবকদের অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর লোভ দেখিয়ে আসছে। স্থানীয়দের অভিযোগে চক্রটির সঙ্গে টৈটং ইউনিয়নের কেরুণছড়ির আবুল হোসেন, তাঁর মেয়ে হাসিনা বেগম ও জামাতা হাবিবুর রহমানসহ কয়েকজনের নাম এসেছে; গুধিকাটার আবু তাহেরের ছেলে এবং বাঁশখালীর ছনুয়ার ফোরকান ও রুবেলের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ। অভিযোগ অনুযায়ী, রাজাখালী মাতবর পাড়ার আহমদ ছবির মেয়ের জামাই ও টেকনাফের নুরুল আলমসহ একাধিক দালাল সরাসরি লোক জোগাড় করে ট্রলারে তুলে দেয়, তাদের সহযোগী হিসেবে নাম এসেছে সাহাব উদ্দিন, ফিরোজ ও সাইফুলের।

জানা গেছে, জনপ্রতি ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আগাম নিয়ে যুবকদের সাগরপথে পাঠানো হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়েছে; তারা জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান। রাজাখালী ইউপির সদস্য নেজাম উদ্দিন নেজু জানান, তারা নিখোঁজদের পরিবারের পাশে থেকে খোঁজ চালাচ্ছেন এবং দালালদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

পেকুয়া থানার ওসি খাইরুল আলম জানান, রাজাখালী ইউনিয়নের কয়েকজন সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে নৌকাডুবির শিকার হয়েছেন বলে গোয়েন্দা তথ্যে তারা জেনেছেন; এখন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। নিখোঁজদের পরিবারের কাছ থেকে কোনো অভিযোগ পাননি জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশাসনের উচ্চপর্যায় ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়িয়ে তথ্য সংগ্রহ চলছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. এমদাদুল হক শরীফ জানিয়েছেন, বিষয়টি যাচাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।