মালয়েশিয়ার পোর্ট ক্লাংয়ের অ্যারোফোম ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানিতে কাজ করা ১০৫ বাংলাদেশি শ্রমিককে জরুরি কনস্যুলার, মানবিক ও আইনি সহায়তা দিতে কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের পক্ষে নিযুক্ত আইনজীবী স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩ জুন) নোটিশটি পাঠান।

নোটিশে বলা হয়েছে, শ্রম, চাকরি, কল্যাণ ও অভিবাসন নিয়ে শ্রমিকেরা এখন গুরুতর সংকটে আছেন, অনেকে না খেয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। বকেয়া বেতন ও অন্যান্য আইনগত পাওনা আদায়ে পোর্ট ক্লাং শ্রম আদালতে তাঁদের একটি যৌথ মামলা চলছে।

মামলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে শ্রমিকদের পাসপোর্ট, ভিসার মেয়াদ ও ওয়ারেন্ট টু অ্যাক্টসহ বিভিন্ন কাগজ যাচাই চলছে। অথচ তাঁদের বড় অংশ তীব্র খাদ্যসংকটে ভুগছেন, অনেকের থাকার জায়গায় পানি-বিদ্যুৎও নেই। এমডব্লিউএন ও সোশ্যালিস্ট অল্টারনেটিভসহ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সাময়িক সহায়তা দিলেও তা প্রাতিষ্ঠানিক কনস্যুলার সুরক্ষার বিকল্প নয় বলে চিঠিতে বলা হয়।

কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়ে আইনজীবী বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শ্রমিকেরা খাবার, বৈধ অভিবাসন সুরক্ষা, আইনি প্রতিনিধিত্ব ও বকেয়া পাওনা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

নোটিশের হিসাবে, ২৮ শ্রমিকের ভিসার মেয়াদ এরই মধ্যে ফুরিয়েছে, ৩৪ জনের মেয়াদ শেষ হবে ২৯ জুন থেকে ২০২৬ সালের ২৬ আগস্টের মধ্যে, আর বাকি ৪৩ জনের ভিসা তিন মাসের বেশি সময় বৈধ। মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে পাসপোর্ট যাচাই দ্রুত শেষ করা এবং হাইকমিশনের জরুরি সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

নোটিশে সতর্ক করা হয়, সরকার ও হাইকমিশন দেরি না করে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ঋণগ্রস্ত এই শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের জীবনে চরম অনিশ্চয়তা নেমে আসতে পারে। দেশটির বড় শিল্পাঞ্চল পোর্ট ক্লাংয়ে বিভিন্ন সময়ে শ্রমিক নির্যাতন ও নিপীড়নের অভিযোগ ওঠার কথাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।