অভিবাসন ব্যবস্থা মাইআইএমএমএসে অনুপ্রবেশ করে অবৈধভাবে অনুমোদন করিয়ে নেওয়া অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিজিট পাসগুলো বাতিল করছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম); এমন পাসের সংখ্যা ১ হাজার ৩০৬। যাদের নামে এসব পাস, সেই বিদেশি কর্মীদের খুঁজে বের করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) এসপিআরএম নামে পরিচিত দেশটির দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানান দাতুক জাকারিয়া শাবান, ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক। তিনি বলেন, অনুপ্রবেশের মাধ্যমে দেওয়া এসব পাস থেকে সরকার কোনো রাজস্ব পায়নি, তাই সেগুলো অবিলম্বে বাতিল হবে।

মহাপরিচালক জানান, প্রথম ধাপে অনিয়মে অনুমোদিত সব পাস বাতিল হবে, এরপর সংশ্লিষ্ট বিদেশিরা এখন কোথায় আছেন তা খুঁজে বের করা হবে। এরা দেশের নানা এলাকায় নানা খাতে কর্মরত, কিন্তু পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তদন্তের স্বার্থে এখনই তাদের অবস্থান জানানো হচ্ছে না; শনাক্তের পর প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তার ধারণা, বিভাগের ভেতরের কারও সহায়তা ছাড়া এমন জালিয়াতি সম্ভব নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা বিভাগের কম্পিউটারে ‘ডংল’ নামের ইউএসবি যন্ত্র আর বিশেষ সফটওয়্যার বসিয়ে প্রশাসনিক (অ্যাডমিন) আইডি দিয়ে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলেন এবং সেগুলো দিয়ে কর্মী পাস অনুমোদন করেন। সাইবার সিকিউরিটি মালয়েশিয়াকে সঙ্গে নিয়ে চালানো ফরেনসিক তদন্তে দেখা যায়, সিস্টেম বাইরে থেকে হ্যাক হয়নি; ভেতরের অনুমোদনপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের প্রবেশাধিকার কাজে লাগিয়েই অপব্যবহার হয়েছে।

মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম হারিয়ান মেট্রো আগেই জানিয়েছিল, ইমিগ্রেশনের কয়েকজন কর্মকর্তার সহায়তায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র এমন ডংল ব্যবহার করে মাইআইএমএমএসে ঢুকে এসব পাস অনুমোদন করিয়েছে। সাইবার নিরাপত্তার দুর্বলতা যাচাই, নেটওয়ার্ক এড়িয়ে যাওয়া কিংবা যোগাযোগ সংকেত নকলের কাজে এই যন্ত্র ব্যবহৃত হয়।

ইমিগ্রেশন মহাপরিচালকের ভাষ্য, মে মাসেই চক্রটির তৎপরতা বিভাগের নজরে আসে; এরপর এসপিআরএমের সঙ্গে মিলে ‘অপস ক্র্যাক’ অভিযানে চক্রটি ভেঙে দেওয়া হয়। ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রশ্নে বিভাগটি শূন্য সহনশীলতার নীতি মানে এবং দায়ীদের সবাইকে বিচারের মুখোমুখি করতে কমিশনের সঙ্গে কাজ চলবে বলেও জানান তিনি।

এসপিআরএমের প্রধান কমিশনার দাতুক সেরি আব্দ হালিম আমানের দেওয়া তথ্যমতে, অভিযানে মোট ১২ জন গ্রেফতার হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা, ওই বিভাগের তথ্যপ্রযুক্তি শাখার আরও দুজন কর্মকর্তা, একজন পুলিশ কর্মকর্তা, তিনজন বিদেশি নাগরিক এবং দুটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক রয়েছেন। সন্দেহভাজনদের বয়স ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে; বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেল ২টা-৫টার মধ্যে কমিশনের সদর দপ্তর ও পেনাংয়ের ইমিগ্রেশন দপ্তর থেকে তাদের ধরা হয়।

প্রাথমিক তদন্তের বরাতে কমিশন জানিয়েছে, লেভি না দিয়েই ২০১১ সালের কর্মী কোটা অপব্যবহার করে চক্রটি ১ হাজার ৩০৬টি ভুয়া পাস দিয়েছে; এর ফলে সরকার প্রায় ২৪ লাখ রিঙ্গিতের রাজস্ব হারিয়েছে।