বাংলাদেশের হয়ে মালয়েশিয়ান ইয়ুথ এসডিজি সামিট ২০২৬-এ অংশ নিয়েছে ইয়ুথ হাব ফাউন্ডেশন বারহাদ, যা মালয়েশিয়াভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা। সামাজিক অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে মালয়েশিয়ার জাতীয় পর্যায়ের এই নীতিনির্ধারণী সম্মেলনে সংস্থাটি স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার ছিল; প্রদর্শনীর ১৩টি বুথের মধ্যে তাদেরটি বিশেষ আকর্ষণ হয়ে ওঠে।

সামিটের উদ্বোধন হয় বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই)। প্রধান অতিথি ছিলেন মোরদি আনাক বিমল, দেশটির যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক উপমন্ত্রী; উপস্থিত ছিলেন দাতুক ড. ডেনিসন জয়াসুরিয়া (এপিপিজিএম-এসডিজির প্রধান সচিব) এবং মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ব্রুনাইয়ে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী নিকোলাস মিন্ট। সমাপনী পর্বে সিনেটর ড. হাজি জুফিতরি জোহা বক্তব্য রাখেন, আর আয়োজন পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন জোয়েল এনজি, মাইএসডিজি একাডেমির পরিচালক।

এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘দ্য ফিউচার অব দ্য সোশ্যাল ইকোনমি’। আরএমকে-১৩ নামে পরিচিত দেশটির ১৩তম জাতীয় পরিকল্পনা আর সিক্স হেলিক্স ইনোভেশন মডেল মাথায় রেখে আয়োজিত এই জাতীয় নীতি পরামর্শে সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিল্প, গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ ও তরুণদের প্রতিনিধিরা যোগ দেন; তাদের মতামত নিয়ে ভবিষ্যৎ নীতিমালার সুপারিশ প্রণয়ন হয়।

প্রদর্শনীতে ইয়ুথ হাব তুলে ধরে ক্লে জুয়েলারি, ইকো-প্রিন্ট, গার্মেন্টস বর্জ্য থেকে বানানো পুনঃব্যবহারযোগ্য স্যানিটারি ন্যাপকিন, নারী ক্ষমতায়ন, ডিজিটাল দক্ষতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মেশিন লার্নিং (এমএল), নেতৃত্ব ও স্বাস্থ্য সচেতনতাবিষয়ক নানা উদ্যোগ। দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী, নীতিনির্ধারক ও উন্নয়নকর্মীদের কাছে এগুলো ব্যাপক সাড়া পায়।

দলের নেতৃত্বে ছিলেন নিয়ান সাহা, সংস্থার ক্রিয়েটিভ অ্যান্ড কালচারাল বিভাগের প্রধান। সঙ্গে ছিলেন জারিফ হামিম ইরাম, কাজী নাফিয়া ইসলাম ও রফিকুল ইসলাম, তিনজনই ইয়ুথ হাবের এসডিজি এজেন্ট। দিনভর তারা নানা দেশের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সংস্থা ও অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে বাংলাদেশের তরুণদের নেতৃত্বে চলা উদ্যোগের কথা বলেন।

আয়োজনসংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এ অংশগ্রহণ বাংলাদেশের তরুণদের প্রযুক্তি শিক্ষা, উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়নের কাজকে বৈশ্বিক পরিসরে পরিচিত করেছে এবং দুই দেশের যুব সহযোগিতা বাড়াতে সহায়ক হবে। প্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এ সাফল্যে কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশনসহ কমিটির নেতারা শুভকামনা জানিয়েছেন।

যুব নেতৃত্বাধীন এই আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থার কার্যক্রম বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়াজুড়ে। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার এসডিজি-৩, ৪, ৫, ৮, ৯, ১৩ ও ১৭ বাস্তবায়নে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা, উদ্যোক্তা তৈরি ও যুব ক্ষমতায়নে কাজ করে সংস্থাটি, যা মালয়েশিয়ার সিএসও-এসডিজি অ্যালায়েন্সেরও সদস্য।