বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো বন্ধ হয়েছিল ২০২৪ সালে। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার ও বর্তমান সরকার, দুই আমলেই বাজারটি আবার চালুর চেষ্টা হলেও কোনোটিই এখনো ফল দেয়নি। ফলে দেশটিতে যেতে আগ্রহী কর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।

বাজার বন্ধ হওয়ার পর প্রত্যাশা বেড়েছিল, কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মোহাম্মদ ইউনূস এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম, দুজনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল ভালো। কিন্তু ২০২৬ সালের নির্বাচন পর্যন্ত বিষয়টি আলোচনাতেই আটকে থাকে।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। ৬ জুন দুই দিনের সফরে মালয়েশিয়া গিয়ে তিনি শ্রমবাজার খোলাসহ নানা বিষয়ে দেশটির রাজা, প্রধানমন্ত্রী ও শীর্ষ কর্মকর্তা এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর আগে ৮ ও ৯ এপ্রিল দেশটি সফর করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর ৩০ জুন হাইকমিশনের হলরুমে প্রবাসী সাংবাদিকদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন জানান, আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) সীমিত সংখ্যায় কর্মী পাঠানো শুরু করবে। তবে প্রক্রিয়া ও খরচ নিয়ে তিনি কিছু বলেননি।

অথচ আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে বোয়েসেল তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জানায়, বাজারটি এখনো বন্ধ, চালুর চেষ্টা চলছে। সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, আলোচনা কি টেবিলেই সীমাবদ্ধ, নাকি অজানা কোনো কারণে বাজার খোলা যাচ্ছে না।

এ অবস্থায় বিভ্রান্তিতে পড়েছেন মালয়েশিয়া যেতে আগ্রহী কর্মীরা। অনেকের পাসপোর্ট ও টাকা আটকে রেখেছে প্রতারকেরা, কেউ কেউ জমি বেচে দালালকে টাকা দিয়েছেন। ঋণগ্রস্ত এসব মানুষ সমাধান না পেয়ে দিশাহারা।