মালয়েশিয়ায় মাথায় আঘাত পেয়ে মানসিক ভারসাম্য হারানো প্রবাসী মো. রানা হুসাইন দেশে ফিরেছেন। লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের এই প্রবাসীকে ফেরাতে সহায়তা করেছে কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশন ও বিডিএফসি ফুটবল ক্লাব। ব্র্যাক মাইগ্রেশনের সহায়তায় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
জানা যায়, মালয়েশিয়ার একটি কোম্পানিতে কাজ করার সময় মাথায় চোট পেয়ে অসুস্থ হন রানা। নিয়োগকর্তা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে দেশে পাঠান; কয়েক মাস চিকিৎসার পর তিনি আবার গিয়ে কাজে যোগ দেন। কিন্তু শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা পুরোপুরি না সারায় একপর্যায়ে ভারসাম্য হারিয়ে কুয়ালালামপুরের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে থাকেন তিনি।
এ অবস্থায় প্রবাসী মেহেদী হাসান তাঁকে দেখতে পেয়ে নিজের কাছে আশ্রয় দেন এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তাঁর অনুরোধে রানাকে দেশে পাঠাতে আড়াই হাজার রিঙ্গিত আর্থিক সহায়তা দেয় হাইকমিশন। সেই টাকায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ২৭ আগস্টের ফ্লাইটের (স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৫০ মিনিট) টিকিট কাটা হলেও ইমিগ্রেশনে স্পেশাল পাস দেখাতে না পারায় বিমানবন্দরে আটকে যান রানা।
পরে জানা যায়, অসুস্থতার কারণে রানা তাঁর বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা হারিয়ে ফেলেছিলেন, আর কোম্পানির প্রতিনিধির ভুলে স্পেশাল পাস ছাড়াই তাঁকে বিমানবন্দরে পাঠানো হয়েছিল। ওদিকে দেশে ফেরানোর খরচ জোগানোর সামর্থ্য নেই বলে মেহেদী হাসানকে জানিয়ে দেয় রানার পরিবার।
তখন মেহেদী হাসান প্রবাসী সাংবাদিক বাপ্পী কুমার দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি বিডিএফসি ফুটবল ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে জানান। ক্লাবের সভাপতি রাফিজ রহমান রাসেলের নির্দেশে সহসভাপতি সোহাগ আহমেদ রানার সঙ্গে দেখা করে তাঁর শারীরিক ও মানসিক অবস্থার খোঁজ নেন। এরপর টিকিট, স্পেশাল পাসসহ দেশে ফেরার সব খরচ বহন করে বিডিএফসি ম্যানেজমেন্ট কমিটি, আর সব প্রক্রিয়া শেষে ৭ সেপ্টেম্বর দেশে পৌঁছান রানা।




