বিশ্বের বড় আন্তর্জাতিক হালাল বাণিজ্য প্রদর্শনীগুলোর একটি ‘মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল হালাল শোকেস’ (এমআইএইচএএস)-এর ২২তম আসরে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশের ছয় প্রতিষ্ঠান। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশনের ব্যবস্থাপনায় তারা মেলায় এসেছে।

‘শেইপিং ট্রাস্ট, ড্রাইভিং রেজিলিয়েন্স’ প্রতিপাদ্যে ২৩ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলছে চার দিনের এ মেলা। বাংলাদেশসহ ৫৮টি দেশের প্রায় ১ হাজার ৭০০ প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নিয়েছে; প্রায় ২ হাজার বুথে ইসলামিক ফাইন্যান্স, পর্যটন, প্রযুক্তি, লজিস্টিকস, ফ্যাশন, প্রসাধনী, ওষুধ ও হালাল খাদ্যসহ ১৪টি খাতের পণ্য ও সেবা দেখানো হচ্ছে।

বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো তালুকদার অ্যাগ্রো ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, প্যারাগন গ্রুপ, নরিশ ফুডস লিমিটেড, ঘোরেরবাজার, বায়োফার্মা লিমিটেড ও অ্যাপেক্স কনভিনিয়েন্স ফুডস লিমিটেড। খাদ্য ও পানীয়, রেডি-টু-ইট ও হিমায়িত খাবার, মসলা, সুগন্ধি চাল, মধু, চা, কৃষিপণ্য, ওষুধ ও ভোক্তাপণ্য তারা বিদেশি ক্রেতা, বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের কাছে উপস্থাপন করছে।

বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী মেলায় বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন ও বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন জাই শ্যাঙ্কার, যিনি ম্যাট্রেডের (মালয়েশিয়া এক্সটার্নাল ট্রেড ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন) ডেপুটি চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (এক্সপোর্ট অ্যাক্সেলারেশন)।

প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ে মালয়েশিয়া ও বৃহত্তর আসিয়ান অঞ্চলে রপ্তানি, নতুন বাজার তৈরি, ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব ও হালাল সনদের বিষয়ে আলোচনা হয়। পরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলে হাইকমিশনার ও জাই শ্যাঙ্কার মেলায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ, বিদেশে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার বাড়ানো এবং দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

হাইকমিশনার আলাদাভাবে প্রাণ এবং এগ্রোভার্স লিমিটেডের (মৈত্রী) বুথেও যান এবং মালয়েশিয়ার বাজারে প্রতিষ্ঠান দুটির শক্ত অবস্থানের প্রশংসা করেন। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ও হাইকমিশনের বুথে ব্রশিওর, প্রকাশনা, প্রচারণামূলক ডকুমেন্টারি ও রপ্তানিযোগ্য পণ্য রাখা হয়েছে; বি-টু-বি মিটিং, বিজনেস নেটওয়ার্কিং ও ম্যাচমেকিংয়ের মাধ্যমে বিদেশি ক্রেতা ও সম্ভাব্য অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এ হালাল বাণিজ্য প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণ বাংলাদেশি হালাল পণ্যের পরিচিতি বাড়াবে এবং নতুন বাজার, অংশীদারত্ব ও রপ্তানি সম্প্রসারণের পথ খুলবে।