দালাল চক্রের প্রতারণার শিকার হয়ে মালদ্বীপে কাজ না পেয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন শত শত বাংলাদেশি কর্মী। কেউ পৈতৃক জমি বেচে, কেউ চড়া সুদে ধার করে দেশটিতে গেলেও প্রতিশ্রুত চাকরি মেলেনি। খাবার, থাকার জায়গা ও ন্যূনতম সুবিধার অভাবে তারা এখন দিশেহারা।
অভিযোগ রয়েছে, বেশি বেতন, বছরে বোনাস ও ভালো থাকার ব্যবস্থার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে একটি চক্র বেকার তরুণদের কাছ থেকে ৫ থেকে ৬ লাখ, কখনো আরও বেশি টাকা নিচ্ছে। মালদ্বীপে পৌঁছে অনেকে তিনবেলা খাবার জোটাতেই হিমশিম খাচ্ছেন; সহায়তার জন্য হাইকমিশনে যাচ্ছেন, কেউ কেউ খালি হাতে দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন।
এ পরিস্থিতিতে মালদ্বীপে যেতে আগ্রহী কর্মীদের সচেতন হওয়ার ওপর জোর দিয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। মিশনের কাউন্সিলর ও হেড অব চ্যান্সারি সৈয়দ আমজাদ আলীর পরামর্শ, আসার আগে ওয়ার্ক পারমিট বৈধ কি না যাচাই করে তা অবশ্যই হাইকমিশন থেকে সত্যায়িত করতে হবে।
দালাল এড়িয়ে সরকার নির্ধারিত প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচে বৈধ পথে মালদ্বীপে আসার অনুরোধ জানান তিনি।
অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে মালদ্বীপ সরকার এখন বেশ কঠোর। বৈধ ভিসা না থাকলে বা নিয়মিত ফি দিতে না পারলে আটক করে দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। তথাকথিত ‘ফ্রি-ভিসা’য় এসে অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করাও এখন গুরুতর অপরাধ, যাতে গ্রেপ্তার ও আজীবন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই চক্র ঠেকাতে দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা, দুই দেশের যৌথ নজরদারি এবং প্রবাসীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।






