মালদ্বীপে কাজ করা বাংলাদেশিরা যাতে সহজে, নিরাপদে ও কম খরচে দেশে টাকা পাঠাতে পারেন, সে জন্য কয়েকটি উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। এর মধ্যে আছে মালদ্বীপের মুদ্রা রুপিয়ায় সরাসরি বাংলাদেশে অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থা, নানা প্রতিষ্ঠানে কাজ করা বাংলাদেশিদের মজুরি মার্কিন ডলারে পরিশোধ নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা এবং দেশটিতে বাংলাদেশি একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা খোলার চেষ্টা।
এরই অংশ হিসেবে ব্যাংক অব মালদ্বীপের (বিএমএল) সদর দপ্তরে মঙ্গলবার (২৩ জুন) বৈঠক করেন হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম এবং বিএমএলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শরীফ। প্রবাসী কল্যাণ, বৈধ পথে রেমিট্যান্স বাড়ানো এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে দুই পক্ষ একমত হয়।
মালদ্বীপপ্রবাসীরা অনেক দিন ধরেই সেখানে বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা এবং ডলারের বদলে রুপিয়াতেই সরাসরি দেশে টাকা পাঠানোর সুযোগ চেয়ে আসছেন। তাদের যুক্তি, এতে খরচ ও সময় দুটোই বাঁচবে, অবৈধ হুন্ডিও নিরুৎসাহিত হবে।
এখন সেখানে কোনো বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা না থাকায় প্রবাসীদের মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আগে রুপিয়া দিয়ে মার্কিন ডলার কিনে তারপর দেশে অর্থ পাঠাতে হয়, ফলে বাড়তি খরচ আর বিনিময়জনিত লোকসান গুনতে হয়। এ ঝামেলা এড়াতে অনেকে হুন্ডির দিকে ঝুঁকে পড়েন।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বৈধ পথে রেমিট্যান্স উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে, প্রবাসীদের খরচ ও সময় কমবে, হুন্ডির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার মজুত মজবুত হবে। আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও স্থিতিশীলতা বাড়াতেও এগুলো ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা করছেন।





