নেপাল ও তিব্বতের সীমান্ত অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১৬৩ জন মারা গেছেন, নিখোঁজ শত শত মানুষ। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ নিশ্চিত করেছেন, নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৩৪ জন তার দেশের নাগরিক।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে নেপালের রাসুয়া জেলায় ভোতে কোশি নদী ও তার আশপাশে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। প্রবল স্রোতে বাড়িঘর, সড়ক ও সেতু ভেঙে পড়ে; লাংটাং উপত্যকা, তিমুরে, স্যাব্রুবেশি ও নুওয়াকোটসহ কয়েকটি এলাকা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে।
অস্ট্রেলীয় সরকার জানিয়েছে, দুর্গত এলাকায় থাকা ওই ৩৪ জনের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা যায়নি; এদের মধ্যে আছেন পর্যটক ও ট্রেকিং দলের সদস্যরা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিমালয়ান গ্লেসিয়ার অ্যাডভেঞ্চার্স বন্যার পর থেকে ৪৭ জনের একটি দলের খোঁজ পাচ্ছে না, যাতে ১৫ জন অস্ট্রেলীয়; এদের দুজন ১৪ ও ১১ বছরের শিশু, আর নিখোঁজদের মধ্যে সবচেয়ে বয়স্ক ৬৪ বছরের এক নারী। দলটিতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর ও নেপালের নাগরিকও ছিলেন।
কৈলাশ জার্নিজের পর্যটকদের একটি দলেরও খোঁজ মিলছে না, আর কাঠমান্ডু হলিডে ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের মাধ্যমে যাওয়া এক অস্ট্রেলীয়র অবস্থানও অজানা। তবে কয়েকটি ট্যুর প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, তাদের অস্ট্রেলীয় অতিথিরা নিরাপদে আছেন।
নেপালের পর্যটন কর্তৃপক্ষের হিসাবে দুর্গত এলাকায় নিখোঁজ ৪০৩ জন, যাদের ৩৪১ জনই বিদেশি; এর মধ্যে ৪৭ জন মার্কিন, ৩৪ জন অস্ট্রেলীয়, ৩৩ জন ব্রিটিশ ও ২৪ জন কানাডীয়। নেপাল অংশে অন্তত ১৫৭ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে; চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে তিনজন মারা গেছেন এবং ২৬৫ জন নিখোঁজ। মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়ার শঙ্কা রয়েছে।
আলবানিজ ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, নিখোঁজ অস্ট্রেলীয়দের অবস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও ট্যুর প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ং ধ্বংসযজ্ঞকে অত্যন্ত ভয়াবহ বলে জানান, নিখোঁজদের খোঁজ পাওয়াই এখন প্রধান অগ্রাধিকার; নেপাল ও চীনে অস্ট্রেলীয় কূটনীতিকদের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি পররাষ্ট্র ও বাণিজ্যবিষয়ক দপ্তরের (ডিএফএটি) বাড়তি কর্মী ও সংকট বিশেষজ্ঞসহ কনস্যুলার সহায়তা দল পাঠানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।
জরুরি প্রয়োজনে নাগরিকেরা ২৪ ঘণ্টা চালু কনস্যুলার ইমার্জেন্সি সেন্টারের সাহায্য নিতে পারবেন বলে জানিয়েছে ডিএফএটি। ওই এলাকার পর্যটকদের স্থানীয় নির্দেশনা মানতে এবং নদীর ধার ও ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।




