রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র তুলেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। সোমবার (১০ আগস্ট) জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদের নেতৃত্বে জোটের একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচনি কর্মকর্তার দপ্তরে গিয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে।
এর আগে রোববার (০৯ আগস্ট) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে শরিকদের বৈঠকে এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে (বীরবিক্রম) রাষ্ট্রপতি পদে জোটের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। জামায়াতের আমিরের সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।
কর্নেল অলি আহমদ সাবেক মন্ত্রী, ৬ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট থেকে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়ে তিনি জেড ফোর্সের অধীনে লড়াই করেন। স্বাধীনতার পর অবসরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামেরও সদস্য ছিলেন।
দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং চারদলীয় জোটে জামায়াতের প্রভাব নিয়ে নেতৃত্বের সঙ্গে মতভেদের জেরে ২০০৬ সালের অক্টোবরে তিনি বিএনপি ছাড়েন এবং বদরুদ্দোজা চৌধুরীসহ ৩২ জন মন্ত্রী-এমপিকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে তোলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)। দলটি তেমন সাড়া জাগাতে না পারায় ২০১২ সালে আবার বিএনপির সঙ্গে জোট বাঁধেন অলি আহমদ। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি জামায়াতের জোটে যোগ দেন, আর সেই জোটই এখন তাকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করেছে।
প্রতিক্রিয়ায় অলি আহমদ বলেন, মুক্তিযোদ্ধা ও পরীক্ষিত মানুষ হিসেবে, যার বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই এবং যিনি সুন্দরভাবে জীবন কাটিয়েছেন, সবাই সর্বসম্মতভাবে তার নাম প্রস্তাব করেছেন। গণতন্ত্রের স্বার্থে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক ও অংশগ্রহণমূলক হওয়া দরকার মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের জায়গা থেকে এই জাতির সঙ্গে কখনো বেইমানি করব না।’ জাতি ও জোটের নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান তিনি।
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্য রক্ষায় প্রার্থী দেওয়াকে তারা দায়িত্ব হিসেবে নিয়েছেন। তার মতে, সব ক্ষেত্রে রাজনীতি স্বচ্ছ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হলে গণতন্ত্র আবার গতি পাবে।






