জুলাই অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থী সিয়াম হত্যার ঘটনায় করা মামলার ১১৩ নম্বর আসামি নজরুল ইসলামকে গোপনে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির পল্লবী থানা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক করার অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, ২২ জুলাই হঠাৎ করে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক এবং সদস্য সচিব মোস্তফা জামান তার পদ অনুমোদন করেন। এতে দলের তৃণমূলে অসন্তোষ ছড়িয়েছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, মিরপুরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন নজরুল। নিজেকে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ইলিয়াস মোল্লার ভাগনে পরিচয় দিয়ে এবং যুবলীগ নেতা ও ওই ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার কাজী জহিরুল ইসলাম মানিকের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে তিনি এলাকায় প্রভাব খাটাতেন বলেও অভিযোগ তাদের। তারা বলছেন, নজরুল কখনো বিএনপির প্রাথমিক সদস্যও ছিলেন না, সরকার পতনের আন্দোলনেও তাকে রাজপথে দেখা যায়নি।
নেতাকর্মীদের অভিযোগ, নজরুলের বিরুদ্ধে হত্যা ও নারী নির্যাতনসহ নানা মামলা ছিল, থানা ও হাউজিং এলাকায় তিনি দালালিতে জড়িত ছিলেন এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর নিপীড়ন চালিয়েছেন। তাদের দাবি, ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে মিরপুরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ইলিয়াস মোল্লার হয়ে কাজ করেন নজরুল, নৌকার ফটোকার্ড গলায় ঝুলিয়ে কেন্দ্রে ঢুকে জাল ভোট দেওয়াতেও যুক্ত ছিলেন। ৫ আগস্টের আগে কাজী জহিরুল ইসলাম মানিকের সঙ্গে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিরোধিতায় তাকে রাজপথে দেখা গেছে এবং ভাইদের সম্পত্তি দখল করার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে আছে বলে জানান তারা।
নেতাকর্মীরা আরও জানান, ২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি নজরুলের উদ্যোগে তার স্ত্রী ও ভাতিজা জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যোগ দেন। গুঞ্জন রয়েছে, নজরুল পদে থেকে গেলে যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের আরও কিছু নেতা মহানগর উত্তর বিএনপিতে পদ পেতে পারেন; আলোচনায় আছেন বেনারসি ব্যবসায়ী ছান্দু ও মো. কাসেম, যাদের ইলিয়াস মোল্লা ও কাজী জহিরুল ইসলাম মানিকের সহযোগী এবং জুলাইয়ের একটি হত্যা মামলার আসামি বলা হচ্ছে। এত অভিযোগের পরও কার সুপারিশে ও কোন প্রক্রিয়ায় নজরুল পদ পেলেন, তা খতিয়ে দেখতে বিএনপির হাইকমান্ডের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
সৈয়দা ফৌজিয়া হোসেনকে নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নেতাকর্মীরা। তিনি বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি ছিলেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অর্থ ও পরিকল্পনা কমিটিতেও সদস্য হিসেবে ছিলেন, আর এখন তিনি জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি। নেতাকর্মীদের অভিযোগ, প্রভাবশালী একাধিক আওয়ামী লীগ নেতার বাসায় তার যাতায়াত ছিল, তিনি আওয়ামী সুবিধাভোগী ছিলেন এবং অতীতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ফাঁসি চেয়ে মানববন্ধন করেছিলেন, যার ছবি-ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়েছে; এমন ব্যক্তিদের দলে ঢোকার সুযোগ যারা দিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা চান তারা।
মামলার সাক্ষী সারফারাজ পাপ্পু সংবাদমাধ্যমকে বলেন, নজরুল সারা জীবন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছেন এবং অভ্যুত্থানের সময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিলে আন্দোলন দমনে রাজপথে ছিলেন। তার দাবি, ছাত্র মাহফুজ ও সিয়াম হত্যার মামলাতেও নজরুল আসামি; এমন বিতর্কিত কেউ কীভাবে বিএনপিতে পদ পান, প্রশ্ন তোলেন তিনি। অভিযোগের বিষয়ে নজরুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সিয়াম হত্যা মামলায় বাদীপক্ষ ভুল করে তাকে আসামি করেছিল, ইতিমধ্যে তিনিসহ অনেকের নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
নজরুলের দাবি, তিনি কখনো আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ছিলেন না, কোনো পদে থাকার প্রমাণও কেউ দিতে পারবে না; এলাকা মাদকমুক্ত দেখতে চান বলেই একটি মাদকবিরোধী কর্মসূচিতে কাউন্সিলরের সঙ্গে ছিলেন, আর ২০২৪ সালের নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এস এম জাহাঙ্গীর (এমপি), যিনি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক, বলেন বিষয়টি তার পুরোপুরি জানা নেই; আর সদস্য সচিব মোস্তফা জামান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে খতিয়ে দেখা হবে। এ বিষয়ে আহ্বায়ক আমিনুল হকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।






