বিভিন্ন আলোচনার পর রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দলের প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়; এরপর বিএনপি চেয়ারম্যান তার হাতে দলের মনোনয়নপত্র দেন এবং নির্বাচন কমিশনে তার মনোনয়নপত্রও জমা দেওয়া হয়।

আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন; তাতে মির্জা ফখরুলের দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হওয়া নিশ্চিত বলে ধরা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, তার মতো প্রবীণ ও সৎ রাজনীতিককে বেছে নিয়ে বিএনপি দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে এবং তিনি নির্বাচিত হলে দেশ অভিভাবক হিসেবে একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিককে পাবে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, মির্জা ফখরুল দীর্ঘ সময় দলকে আগলে রেখেছেন এবং দলের প্রতি তার অবদানের কারণেই ঐকমত্যের ভিত্তিতে তাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তাই বিএনপির দিক থেকে এ নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য আসবে না। তার মতে, রাষ্ট্রপতির পদটি একেবারেই আলংকারিক এবং সংবিধানে এর তেমন করণীয় নেই; তবে রাজনীতিবিদ ও দলের একজন স্কলার হিসেবে মির্জা ফখরুল সরকারকে পরামর্শ দিতে পারবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. স ম আলী রেজার মতে, বিদ্যমান সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব অনেকটা আলংকারিক হলেও মির্জা ফখরুলের বেলায় বিষয়টি কিছুটা আলাদা হবে, আর তাকে বেছে নিয়ে বিএনপি প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছে। উন্নয়নশীল দেশে প্রায়ই সংকটময় মুহূর্ত আসে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন সময়ে রাষ্ট্রের সবচেয়ে সম্মানের আসনে একজন প্রাজ্ঞ ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ থাকা দরকার, আর প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে কাজের রসায়ন খুব গুরুত্বপূর্ণ; ‘সেই দিক থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যোগ্যতম।’ তার আশা, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল দেশের অভিভাবকের ভূমিকার পাশাপাশি বিএনপির ভবিষ্যৎ পথচলায় ভুলত্রুটি শুধরাতে এবং সাংবিধানিক অবস্থান থেকে প্রধানমন্ত্রীকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারবেন।

ড. মো. সাহাবুল হক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিলেট) পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক, বলেন, সংকট মেটাতে ও রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা আনতে রাষ্ট্রপতি নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখবেন, এটাই হবে মানুষের মূল প্রত্যাশা; সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তিনি জাতীয় ঐকমত্য গড়তে সহায়ক হবেন বলেও আশা করেন এই অধ্যাপক। তার মতে, কর্মসংস্থান, জীবনমানের উন্নয়ন ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নতুন রাষ্ট্রপতি সরকারকে গঠনমূলক পরামর্শ দেবেন, আর আইনের শাসন, মানবাধিকার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় তার অবস্থান মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।