বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম শাহাদাতবার্ষিকী ১৫ আগস্ট। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ভোররাতে তাকে সপরিবারে হত্যা করা হয়; সে রাতে গুলিতে প্রাণ হারান পরিবারের ১৮ জন, তাদের মধ্যে শিশু রাসেল ও অন্তঃসত্ত্বা নারীও ছিলেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতা হারানোর পর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের বড় অংশ দেশ ছাড়েন, দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রমও নিষিদ্ধ। এর মধ্যেই দিনটি উপলক্ষে দেশের বাইরে থেকে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন দলের কেন্দ্রীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা, আর যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠনগুলো পোস্টার, খাবার বিতরণ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে। আগের দুই বছরের তুলনায় এবার ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ও যুবলীগও নানা কর্মসূচি দিয়েছে; প্রবাসে বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে আলোচনা সভা ও দোয়ার আয়োজন করেছেন দলের নেতারা।

১৯৭৫ সালের হত্যাকাণ্ডের পর বিচার ঠেকাতে খন্দকার মোশতাক আহমেদ ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করেছিলেন। একুশ বছর পর ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সেটি বাতিল করলে বিচারের পথ খোলে; ১৯৯৮ সালে ১৫ জনের ফাঁসির রায় হয়, তবে ২০০১ সালের পটপরিবর্তনের পর মামলাটি আপিল বিভাগে আটকে যায়। ২০০৮ সালে আবার সরকারে এসে আওয়ামী লীগ বিচারকাজ শেষ করে এবং ফাঁসির রায় কার্যকর করে।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার দিনটিকে জাতীয় শোক দিবস ও সরকারি ছুটি ঘোষণা করে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০২৪ সালে দিবসটি ও ছুটি দুটোই বাতিল করে, তাই আগের দুই বছরের মতো এবারও সরকারিভাবে কোনো শোক দিবস পালিত হচ্ছে না।