ছাত্রলীগ নেতা মনির সিদ্দিকী সিলেটের বিয়ানীবাজারে গ্রেপ্তার হওয়ার পর পুলিশকে প্রকাশ্যে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তার বড় ভাই এম এন শাওন সাদেকী, যিনি বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (বাংলাদেশ ন্যাপ) চেয়ারম্যান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে তিনি এ ধন্যবাদ জানান।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় পৌরশহর এলাকা থেকে তাকে ধরে পুলিশ। মনিরুল ইসলাম সাদেকী নামেও পরিচিত মনির সিদ্দিকীর বাড়ি উপজেলার মাথিউরা ইউনিয়নের পূর্বপার গ্রামে; বিয়ানীবাজার উপজেলা ছাত্রলীগে তিনি উপ-গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।

ফেসবুক টাইমলাইনের ওই পোস্টে তিনি মনির সাদেকীকে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতা উল্লেখ করে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য সিলেটের এসপি ড. চৌধুরী মো. সাদেক এবং বিয়ানীবাজার থানার ওসিকে ধন্যবাদ জানান। এক ব্যক্তির মন্তব্যের জবাবে একই পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমার ভাই হলে তো কী হয়েছে?’ কেয়ামতের মাঠে ইয়া নফসির প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, আল্লাহ ছাড়া কারও প্রতি তার মায়া নেই, আছে কেবল স্বাধীন বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক মানুষের জন্য।

ভাইকে ছাড়িয়ে আনার চেষ্টা না করে যারা তাকে গ্রেপ্তার করেছেন, সেই পুলিশ কর্মকর্তাদেরই প্রকাশ্যে ধন্যবাদ জানানোয় স্থানীয় রাজনীতিতে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ৮ ও ১০ আগস্ট ভোরে পৌরশহরে আলাদা মিছিল বের করেন। পরে এসব মিছিলের ভিডিও ও ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়ায়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ১১ আগস্ট মধ্যরাতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে।

মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি ২৪ জন। তাদের মধ্যে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কাশেম পল্লব, তার ছেলে আব্দুল কাদির রাফি ও মাথিউরা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আমান উদ্দিনের পাশাপাশি মনির সিদ্দিকীর নামও রয়েছে। আসামিদের একজন জাহেদ আলম, যিনি উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি, ১০ আগস্ট রাতেই গ্রেপ্তার হন; পরদিন আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

সামাজিক মাধ্যমে মিছিলের ছবি-ভিডিও ছড়ানোর বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। আবু জাফর মো. মাহফুজুল করিম, যিনি বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), জানান যে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং অন্যদের ধরতে অভিযান চলছে।