এটিএন নিউজের টকশো ‘স্বাধীন সংলাপ’-এ তীব্র বাদানুবাদের পর এবার ফেসবুকেও মুখোমুখি হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মোহাম্মদ রাশেদ খাঁন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) আলাদা পোস্টে দুজনই একে অপরকে ইঙ্গিত করে নানা মন্তব্য করেন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে অনুষ্ঠানটির সাম্প্রতিক পর্বে বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের কাজের মূল্যায়ন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তর্কে জড়ান দুজন। ৪২ মিনিটের আলোচনার শেষ ভাগে উপস্থাপিকা রাশেদকে উদ্ধৃত করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চাইলে তুষার রাশেদের কথার সত্যতা চ্যালেঞ্জ করেন এবং তাকে মিথ্যা বলার অভিযোগে আক্রমণ করেন। এরপর জুলাই আন্দোলনে কার কী ভূমিকা ছিল, কে মামলার শিকার হয়েছেন—সেই তর্কে অনুষ্ঠান আর এগোয়নি।
মঙ্গলবার দুপুর ১টা ১৯ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, তিনি টকশোতে গঠনমূলক কথা বলার চেষ্টা করলেও শেষ দিকে তুষার তাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেন; গণঅভ্যুত্থানের পর এনসিপিতে যোগ দেওয়া গণঅধিকার পরিষদের সাবেক নেতাদের বরাত দিয়ে তুষার বলেছেন, গণমাধ্যমের সামনে রাশেদ এগিয়ে থাকলেও পুলিশ এলে পিছিয়ে পড়তেন। রাশেদ লেখেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ২০১৮ সালে শেখ হাসিনাকে কটূক্তির অভিযোগে করা মামলায় তিনি জেল খেটেছেন এবং ১৫ দিন রিমান্ডে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, অথচ তুষার জবাবে বলেছেন চুরির মামলাতেও জেল হয়। ২০২৪ সাল পর্যন্ত যুগপৎ আন্দোলনে রাজপথে থাকলেও তখন তুষারকে কখনো রাস্তায় দেখেননি বলেও দাবি করেন তিনি।
গণঅভ্যুত্থানে নিজের ভূমিকা তুলে ধরে রাশেদ লেখেন, ২০২৪ সালে ছাত্র না থাকায় নেতৃত্ব দেওয়ার প্রশ্ন ছিল না, তবে শেখ হাসিনা মানুষ হত্যা শুরু করলে তিনি ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে রাজনৈতিক সমন্বয় করেন। তার দাবি, জাতিসংঘের বাংলাদেশ প্রতিনিধির সঙ্গে নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও আখতার হোসেনদের বৈঠক হয়েছিল তার মাধ্যমেই, আর ১৮ জুলাই আসিফ মাহমুদ ও আহনাফ সাঈদ খানকে রাজনৈতিক দলগুলোকে আন্দোলনে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি সমন্বয় শুরু করেন এবং আহনাফকে কর্মসূচির লজিস্টিক সহায়তা দেন। ১৯ জুলাই নুরুল হক নুর গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার বাসায় দুবার অভিযান হয় এবং এরপর বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আন্দোলনের রাজনৈতিক কর্মপন্থা ঠিক করতে কাজ করেন বলেও উল্লেখ করেন রাশেদ।
রাশেদ আরও দাবি করেন, ৩১ জুলাই বিএনপিপন্থী শিক্ষক ও আইনজীবীদের হাইকোর্টের সামনে নামার সিদ্ধান্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করেই নেওয়া হয়েছিল এবং ৩ আগস্ট গ্রেপ্তারের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে তিনি শহীদ মিনারে গিয়ে সমন্বয়কদের সঙ্গে কথা বলেন। টকশো প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তখন কোথায় ছিলেন—তুষারের এমন প্রশ্নে তিনি জানান তারা নির্বাসনে থেকে কাজ করেছেন, কিন্তু পাল্টা প্রশ্নে তুষার কেবল ১৯ জুলাই মাঠে থাকার কথা বলে আগে-পরের প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান। রাশেদের দাবি, তুষার তাকে বেয়াদব ও মিথ্যুক বলেন এবং দ্বিতীয়বার বেয়াদব বলার পরই তিনি পাল্টা জবাব দেন।
পোস্টে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ইমতিয়াজ মির্জার একটি লেখাও তুলে ধরেন রাশেদ; সেখানে দাবি করা হয়, ২০২৪ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির দিকে তুষারকে প্রগ্রেসিভ বিএএফ গ্রুপে যুক্ত করা হলেও আগস্টের ২-৩ তারিখে আওয়ামী লীগ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্যদের গ্রেপ্তারের গুজব ছড়ালে তিনি গ্রুপ ছেড়ে সরে পড়েন। শেষে রাশেদ লেখেন, কেউ ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করলে চুপ থাকার মতো সুশীল তিনি নন, আর নতুন বন্দোবস্তের কথা বলে ভণ্ডামির রাজনীতি শুরু করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন। তবে অপর পক্ষ থেকে ভদ্রতা এলে তার দিক থেকে আরও বেশি আসবে বলে জানান তিনি।
রাশেদের পোস্টের পর তাকে ইঙ্গিত করে পাল্টা পোস্ট দেন সারোয়ার তুষার, যেখানে তিনি লেখেন, ‘আমি দেনদরবার কিংবা লবিং করে টকশোতে যাই না।’ তার দাবি, কাউকে দিয়ে প্রযোজকদের কাছে তদবির করানো কিংবা সরকারি ক্ষমতা খাটিয়ে টেলিভিশন হাউজকে চাপ দিয়ে তিনি আলোচক হননি, বরং সরকারের কাছ থেকে সুবিধা পাওয়া কিছু দলছুট ব্যক্তি ক্ষমতার জোরে টকশোতে যান—যদিও কারও নাম নেননি তিনি। গণমাধ্যমের সঙ্গে নিজের সম্পর্ককে শতভাগ অর্গানিক দাবি করে এর সাক্ষী হিসেবে হাউজগুলোর সিইও, সিএনই ও প্রযোজকদের কথা উল্লেখ করেন তুষার এবং পোস্টের শেষে ইংরেজিতে লেখেন, রাস্তার কুকুরের কথায় তার পরিচয় নির্ধারিত হবে না।





