মন্ত্রী হিসেবে শেষ কর্মদিবসে দল ও সরকারের দুটি বৈঠকে অংশ নিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি বিএনপির সদ্য সাবেক মহাসচিব, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; বিদায়ী বক্তব্যে ফুঁপিয়ে কেঁদে ফেলেন তিনি। বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) সভায় যোগ দেওয়ার পর বিকেলে সরকারি দলের এমপিদের সঙ্গে সংসদ ভবনে বৈঠকে বসেন তিনি।
দিনভর ব্যস্ততার মধ্যেও সহকর্মীদের সঙ্গে তার চেনা আন্তরিকতা ছিল অটুট। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনের অনেকের কাছে দিনটির তাৎপর্য ছিল ভিন্ন—দল ও সরকারের সঙ্গে তার দীর্ঘ যাত্রার শেষ অধ্যায়। দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হওয়ার ঠিক আগের দিন এটিই ছিল মন্ত্রী হিসেবে তার শেষ কর্মদিবস।
জানা গেছে, সক্রিয় দলীয় রাজনীতির মঞ্চ থেকে বিদায়ের আগে শেষ বক্তব্য দিতে গিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি এবং নেতাকর্মীদের দোয়া চাওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নিজের পক্ষে ভোট চান। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ আলো সংবাদমাধ্যমকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংসদের অনুষ্ঠানে সবার চোখ ভিজে ওঠে; দলের সংগ্রামী সাবেক মহাসচিবের বিদায় আনন্দের হলেও তা কষ্টেরও।
দলে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব থেকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হয়ে মহাসচিব পর্যন্ত দীর্ঘ পথচলার কথা স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এ সময়ে কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে বা অজান্তে কাউকে আঘাত করে থাকলে তিনি ক্ষমা চান। দলের দেওয়া সম্মান ও দায়িত্ব প্রয়োজনে জীবন দিয়ে রক্ষার অঙ্গীকার করে তিনি জানান, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ছাড় দেবেন না। বঙ্গভবনে গিয়ে সহকর্মীদের অভাব বোধ করবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট হবে। বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুলের প্রতিপক্ষ কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, যিনি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী। প্রাথমিক হিসাবে ২৪৭ জন সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুলের পক্ষে, অলি আহমদের সঙ্গে আছেন ৯০ জন; ফলে সংসদে দলীয় শক্তির বিচারে তার জয়ের সম্ভাবনাই বেশি।
গত ১৩ আগস্ট বিএনপি তাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার পর থেকেই দলীয় দায়িত্ব ছাড়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে, তাই বুধবারের দুই বৈঠক ঘিরে আবেগ ও কৌতূহল তৈরি হয়। এক দশকের বেশি সময় মহাসচিবের দায়িত্বে থাকা মির্জা ফখরুল দলের দুঃসময়ে রাজপথের আন্দোলন, বিদেশে দলের বক্তব্য তুলে ধরা এবং মুখপাত্রের ভূমিকায় সামনের সারিতে ছিলেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জাতীয় ঐক্য গড়ার প্রচেষ্টায়ও তিনি সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেছেন।
১৯৪৮ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুলের বাবা মরহুম রুহুল আমিন (চখা মিয়া) কৃষি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তার বড় চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ ভূমিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন ১৯৭৮ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত, আর দ্বিতীয় জাতীয় সংসদের স্পিকার ছিলেন ১৯৭৯ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত। পরে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবেও কাজ করেন তিনি, ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত।






