রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগের দিন বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় বিদায়ী বক্তব্য দিতে গিয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যে চার-পাঁচবার কেঁদে ফেলেন রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী ও সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার (১৯ আগস্ট) বেলা দুইটা থেকে জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রায় দেড় ঘণ্টা এ সভা চলে। খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমদসহ স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্য এবং দলের সংসদ সদস্যরা এতে উপস্থিত ছিলেন।

সভা-সংশ্লিষ্টরা জানান, শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটদানের পদ্ধতি সংসদ সদস্যদের বুঝিয়ে দেন এবং মির্জা ফখরুলের পক্ষে ভোট চান। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনে মির্জা ফখরুল নিজেও ভোট দেবেন; নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব নিলে তার ঠাকুরগাঁও-৩ আসন শূন্য হয়ে যাবে।

এরপর বক্তব্য দিতে দাঁড়িয়েই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মির্জা ফখরুল। তিনি দলের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন, চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও পরে মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘ দায়িত্ব পালনের সময় কোনো ভুল হয়ে থাকলে বা অজান্তে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তিনি ক্ষমা চান।

দলের দেওয়া সম্মান ও দায়িত্ব প্রয়োজনে জীবন দিয়ে রক্ষা এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপসহীন থাকার অঙ্গীকার করেন মির্জা ফখরুল। বঙ্গভবনে গিয়ে সহকর্মীদের অভাব অনুভব করবেন জানিয়ে তিনি সবার দোয়া চান এবং দলীয় এমপিদের তাকে ভোট দেওয়ার অনুরোধ করেন। উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্য জানান, তার কান্নায় সভায় আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়, প্রধানমন্ত্রীও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

পরে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিনটিকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘অনেক মূল্য দিয়ে আমরা আজ এ জায়গায় এসেছি।’ এ জন্য আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা চলতে থাকলে রাষ্ট্রের সব স্তরে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠিত হবে, আর রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি যে অপরিহার্য, তা সবাইকে মনে রাখতে হবে।

মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দলের দুঃসময়ে তিনি সাহসের সঙ্গে হাল ধরেছিলেন, কখনো হাল ছাড়েননি, কারাবন্দীও হয়েছেন; দুর্ভাগ্যজনকভাবে সে সময় তারেক রহমানকে দেশের বাইরে থাকতে হয়েছিল। মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে দলীয় এমপিদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি ঐক্যবদ্ধ ও সুশৃঙ্খল থাকার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন এবং সাংগঠনিক ঐক্য ধরে রাখার ওপর জোর দেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে এমপিদের সতর্কও করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, অনেক এমপির সঙ্গে এলাকায় দলের দূরত্ব বাড়ছে, যা কোনোভাবেই হতে দেওয়া যাবে না; দলীয় প্রতীক ছাড়া হতে যাওয়া এবারের নির্বাচন তাই চ্যালেঞ্জিং। গত সংসদ নির্বাচনে অনেকে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে দাঁড়ানোয় দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি দল-সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে কেউ যেন না দাঁড়ান, সে জন্য এখনই কাজ শুরু এবং স্থানীয়ভাবে যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিয়ে জয়ী করার আহ্বান জানান।