রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও চেতনাকে সম্মান দেখাবেন বলে আশা প্রকাশ করেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। জমিয়তের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এক প্রতিক্রিয়ায় এ প্রত্যাশার কথা জানান।
বাহাউদ্দীন যাকারিয়া বলেন, মির্জা ফখরুল একজন সজ্জন ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ, যাকে তিনি মাজলুম হিসেবেও বর্ণনা করেন। তার ভাষ্য, রাজনীতিতে ফখরুলের অভিজ্ঞতা দীর্ঘ; তিনি আগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন, একটি বড় দলের মহাসচিব ছিলেন এবং আন্দোলন-সংগ্রামেও তার লম্বা অভিজ্ঞতা আছে।
এই অভিজ্ঞতার আলোকে জমিয়তের এ নেতা আশা করেন, ‘রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি যথার্থ ও উপযুক্ত ভূমিকা পালন করবেন।’ দেশ ও জাতির কল্যাণে রাজনীতিক হিসেবে ফখরুলের যে অঙ্গীকার আছে, সেখান থেকেই তিনি দায়িত্বশীল আচরণ করবেন বলে মনে করেন বাহাউদ্দীন যাকারিয়া।
তিনি আরও বলেন, ফখরুল দীর্ঘদিন যে দলের মহাসচিব ছিলেন, সেই দল নিজেদের ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী বলে দাবি করে। তাই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে বসে তিনি দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসকে সম্মান করবেন—এটাই তাদের প্রত্যাশা।
সংসদীয় ব্যবস্থা ফিরে আসার পর ১৯৯১ সালে শেষবার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়। তাতে বিএনপির আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোটে জেতেন, আর আওয়ামী লীগ মনোনীত সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পান ৯২ ভোট। ১৯৯৬ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত প্রতিবার প্রার্থী একজন হওয়ায় আর ভোটাভুটি লাগেনি।
এবার ফখরুলের প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। নির্ধারিত সময়ে কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় ভোট নিশ্চিত হয়েছে। ১৩ আগস্ট ফখরুলের মনোনয়নপত্র জমা পড়ে এবং ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাইয়ের পর নির্বাচন কমিশন তা বৈধ ঘোষণা করে।
দীর্ঘ বিরতির পর এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা রাজনৈতিক অঙ্গনেও আগ্রহ তৈরি করেছে।






