জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান দেশের সংবাদপত্র সম্পাদকদের প্রতি লেখনীর মধ্য দিয়ে সত্যকে সামনে আনার আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে সম্পাদকদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময়ে তিনি এ কথা বলেন।
সভায় জামায়াত আমির জানান, দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা রক্ষার লক্ষ্যে দলটি নীতিগতভাবে ঠিক করেছে—সরকারের ভালো উদ্যোগে তারা সহযোগিতা করবে, আর সব অন্যায় ও গণবিরোধী পদক্ষেপ প্রতিরোধ করবে। তার ভাষ্য, অতীতে প্রথাগত বিরোধী দলের যে নেতিবাচক চর্চা ছিল, জামায়াত সেই ধারা ভেঙে দিতে চায়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সংসদে জামায়াত ও ১১ দলের ভূমিকাও সম্পাদকদের সামনে তুলে ধরেন শফিকুর রহমান। জাতীয় নানা সমস্যা, জনদুর্ভোগ এবং বিশেষ করে জুলাই সনদের ভিত্তিতে হওয়া গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ঘিরে তৈরি সংকট নিরসনে দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন তিনি। সংসদের ভেতরে-বাইরে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত গঠনমূলক ভূমিকা রেখে চলেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
গণতান্ত্রিক উত্তরণে সম্পাদকদের দায়িত্বশীল সহযোগিতা চেয়ে জামায়াত আমির বলেন, সম্পাদকেরা নিজেরাই মত দিয়েছেন যে সংসদের অতীতের বিরোধী দলগুলোর চেয়ে জামায়াত আলাদা। দলটি সংসদকে গঠনমূলকভাবে সচল রাখতে চায়, তবে সে জন্য সরকারকেও দায়িত্বশীল হতে হবে; শুধু বিরোধী দলের পক্ষে তা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সভা শেষে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। গণমাধ্যমের সঙ্গে জামায়াতের দূরত্ব রয়েছে কি না—এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এমন কোনো দূরত্ব আছে বলে তারা মনে করেন না।
উপস্থিত সম্পাদকদের মধ্যে ছিলেন মাহফুজ আনাম (দ্য ডেইলি স্টার), তাসমিমা হোসেন (দৈনিক ইত্তেফাক), শফিক রেহমান (দৈনিক যায়যায়দিন), মতিউর রহমান চৌধুরী (দৈনিক মানবজমিন), দেওয়ান হানিফ মাহমুদ (দৈনিক বণিক বার্তা), সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর (দৈনিক নয়া দিগন্ত), ড. মাহমুদুর রহমান (দৈনিক আমার দেশ), শফিকুল আলম (ডেইলি ওয়াদা), এ এম এম বাহাউদ্দীন (দৈনিক ইনকিলাব) ও মারুফ কামাল খান (প্রতিদিনের বাংলাদেশ)। সভায় ছিলেন দৈনিক প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরীফ।
জামায়াতের নেতাদের মধ্যে ছিলেন বিরোধীদলীয় উপনেতা ও নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। এ ছাড়া দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও মাওলানা আবদুল হালিম এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল ও উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।






