বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম, ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে চালানো ভুয়া ফেসবুক আইডি আর পেজের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। তার ব্যক্তিগত সহকারী মশিউর রহমান বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় জিডিটি করেন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বিষয়টি জানান।

জিডিতে বলা হয়, রিজভী আহমেদ ব্যক্তিগতভাবে কোনো ফেসবুক আইডি, প্রোফাইল বা পেজ চালান না। তাই তার নামে খোলা কোনো অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত পোস্ট, বক্তব্য, ছবি, ভিডিও, মন্তব্য বা প্রচারণাকে তার নিজের কিংবা অনুমোদিত বক্তব্য হিসেবে ধরা যাবে না।

জিডির ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি কিছু ব্যক্তি বা অজ্ঞাতপরিচয় লোকজন উদ্দেশ্যমূলকভাবে তার নাম, পদবি, ছবি ও পরিচয় কাজে লাগিয়ে বেশ কয়েকটি ভুয়া আইডি, প্রোফাইল ও পেজ চালাচ্ছে। এর একটিতে ব্লু ভেরিফিকেশন বা নীল চিহ্ন থাকায় সেটিকেই তার আসল ও অনুমোদিত অ্যাকাউন্ট ভেবে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হতে পারেন বলে আশঙ্কা জানানো হয়েছে।

জিডিতে আরও বলা হয়, এসব অ্যাকাউন্ট থেকে তার নামে নানা বক্তব্য, রাজনৈতিক মতামত, ছবি, ভিডিও ও সংবাদ ছড়ানো হচ্ছে, কিংবা ভবিষ্যতে ছড়ানো হতে পারে। এতে তার সুনাম এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জনমনে বিভ্রান্তি ও রাজনৈতিক ভুল তথ্য ছড়ানোর ঝুঁকি রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

এর আগেও রিজভী আহমেদ নিজের নামে চালানো ভুয়া আইডি ও প্রোফাইলের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছেন এবং পল্টন থানায় একাধিকবার জিডি করেছেন। এসব অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ভবিষ্যতে আরও গুরুতর অপপ্রচার, প্রতারণা, মানহানিকর বক্তব্য বা রাজনৈতিক উসকানি ছড়ানো হতে পারে বলেও জিডিতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

জিডিতে পুলিশের কাছে কয়েকটি পদক্ষেপের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এর মধ্যে আছে ভুয়া আইডি ও পেজগুলোর বিষয়ে তদন্ত, সেগুলোর ইউআরএল, আইডি, ইউজারনেম, ভেরিফিকেশনের অবস্থা, পোস্ট, ছবি, ভিডিওসহ ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ এবং প্রকৃত পরিচালনাকারীদের প্রযুক্তিগত তদন্তে শনাক্ত করা।

প্রয়োজনে ফেসবুক/মেটা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে অ্যাকাউন্টের তথ্য সংগ্রহ এবং ভুয়া অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধের ব্যবস্থা নিতেও বলা হয়েছে। তদন্তে অপরাধের উপাদান মিললে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ ও প্রযোজ্য অন্যান্য আইনে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভবিষ্যতে তার নাম ব্যবহার করে প্রতারণা ও অপপ্রচার ঠেকাতে আইনগত ও প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধও রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর উল্লেখ করে দ্রুত তদন্ত চাওয়া হয়েছে।