অতীতে বারবার সংকটে পড়া বাংলাদেশকে বিএনপিই উদ্ধার করেছে এবং এবারও গভীর সংকট থেকে দেশকে বের করে আনতে দলটিই নেতৃত্ব দিতে পারবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরের পুরাতন রেলস্টেশন এলাকায় সমাবেশ হয়, সেখানে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য।

দীর্ঘ আন্দোলনের পর দলের পুরোনো চেনা মুখগুলো আবার একসঙ্গে দেখতে পাওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করেন আমির খসরু। তিনি বলেন, এদের অনেকে আন্দোলনের দিনগুলোতে রাজপথে ছিলেন, কারাগারে গেছেন, নির্যাতন সয়েছেন; কেউ প্রাণ হারিয়েছেন, কেউ পঙ্গু হয়েছেন, আর এই ত্যাগের বিনিময়েই দল আজকের জায়গায় এসেছে। সরকারি দায়িত্বের চাপে নেতাকর্মীদের আগের মতো সময় দিতে না পারার কথাও স্বীকার করেন তিনি।

দলীয় কর্মীদের সঙ্গে সাধারণ মানুষকেও সংকট মোকাবিলায় এগিয়ে আসার ডাক দিয়ে আমির খসরু বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে দেশকে বের করে আনতে সবাইকে মিলে কাজ করতে হবে, আর সে জন্য মন্ত্রী-এমপি হওয়ার দরকার নেই, দল ও দেশের প্রতি ভালোবাসাই যথেষ্ট। তার ভাষায়, ‘গর্ত থেকে উঠে আসতে একটু সময় লাগবে।’ তবে কাজ করলে বিএনপি ও তারেক রহমান তা পারবেন বলে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন তিনি।

দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, রাজনৈতিক শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতি অঙ্গীকার এবং উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতি তিনি শিখিয়েছেন, জাতীয়তাবাদী শক্তির পতাকাতলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজনীতির শিক্ষাও দিয়েছেন। তার মতে, দলের চেয়ে দেশ বড়, এটাই তাদের শিক্ষা; বেগম খালেদা জিয়াও নিজের জীবন দিয়ে সেই শিক্ষা দিয়ে গেছেন। হাজারো নেতাকর্মীর প্রাণ এবং লাখো নেতাকর্মীর কারাভোগ ও পঙ্গুত্বের বিনিময়ে পাওয়া এই সুযোগে এখন দেশ গড়ায় মন দিতে হবে বলে জানান তিনি।

বাজেট প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতির এই সংকটকালে বড় আকারের বাজেট দিতে সাহস লাগে, যা অনেকের নেই; বিএনপি সেই সাহস দেখিয়েছে এবং এ বাজেট পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি জানান, মানুষের সমস্যাকে কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সমস্যা হিসেবে নয়, সামগ্রিক সমস্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং সামনে একের পর এক পদক্ষেপ কার্যকর করা হবে। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে গণতান্ত্রিক নির্বাচন, নির্বাচিত সংসদ ও সরকার পাওয়া গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের প্রত্যাশা পূরণই এখন সরকারের মূল দায়িত্ব।

উন্নয়ন ও সরকারি কাজ বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো চেষ্টার ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে বলেন আমির খসরু; তার সতর্কবার্তা, নানা অপশক্তি এমন চেষ্টা চালাবে, আর যারা আগামী দিনের উন্নয়ন ব্যাহত করবে, দেশের মানুষ তাদের ক্ষমা করবে না। মাদক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এলাকায় কারা মাদকের কারবার করে তা স্থানীয়রা জানেন, তাই পুলিশের অপেক্ষায় না থেকে তাদের ধরিয়ে দিতে হবে; চাঁদাবাজ ও দখলদারদের বিরুদ্ধেও একইভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে। তারেক রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও শহীদ জিয়াউর রহমানের দেখানো স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন এরশাদ উল্লাহ, যিনি চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এবং চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য; সঞ্চালনায় ছিলেন মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান। অন্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান (চট্টগ্রাম-১০) ও প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনসহ নেতারা। দুপুর থেকে নগরের থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিট পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেয়, পরে সেখান থেকে বের হওয়া শোভাযাত্রা কোতোয়ালি হয়ে লালদীঘিতে গিয়ে শেষ হয়।