বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় শূন্য হয়েছে তার নির্বাচনী আসন ঠাকুরগাঁও-১। রাষ্ট্রপতি পদে তার শপথের পরপরই নির্বাচন কমিশন (ইসি) আসনটি শূন্য ঘোষণা করে, ফলে আগামী তিন মাসের মধ্যে সেখানে উপনির্বাচন হবে। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনকে প্রায় ৯৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছিলেন।

জেলা নির্বাচন অফিসের হিসাবে, গত জাতীয় নির্বাচনে আসনটিতে মোট ভোটার ছিলেন ৫ লাখ ১১ হাজার ৬১৯ জন। এখন পাড়ার চায়ের দোকান থেকে রাজনৈতিক অঙ্গন, সবখানে আলোচনা একটাই, এখানে বিএনপির প্রার্থী কে হচ্ছেন। দল এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত না করলেও জেলার বেশির ভাগ নেতাকর্মী মনে করছেন, মনোনয়ন মির্জা পরিবারেই যাবে এবং মির্জা ফয়সাল আমিনই হবেন দলের কান্ডারি; তবে শেষ সিদ্ধান্ত বিএনপির মনোনয়ন বোর্ডের, আর দল যাকেই বেছে নিক, সবাই একজোট হয়ে তার পক্ষে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন জেলা নেতারা।

ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতি ও আন্দোলন-সংগ্রামে মির্জা পরিবারের দীর্ঘদিনের ভূমিকা রয়েছে। জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির ছোট ভাই, জেলা বিএনপির সভাপতি ও ঠাকুরগাঁও পৌরসভার সাবেক মেয়র মির্জা ফয়সাল আমিনের ওপরই ভরসা রাখতে চায় দলের হাইকমান্ড; মনোনয়ন পেলে বড় ভাই এবং বাবা মরহুম মির্জা রুহুল আমিনের মতো তিনিও পৌরভবন থেকে সংসদ ভবনে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। জেলা বিএনপিকে দীর্ঘ সময় নেতৃত্ব দেওয়া ও দল ঐক্যবদ্ধ রাখার অভিজ্ঞতার কারণে তৃণমূলের অনেকেও তাকে এগিয়ে রাখছেন।

মির্জা ফখরুলের বড় মেয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও গবেষক ড. শামারুহ মির্জার নামও আলোচনায় আছে; গত সংসদ নির্বাচনে তিনি বাবার পক্ষে প্রচারে সক্রিয় ছিলেন, তাই বাবার অবর্তমানে আসনের হাল তিনি ধরতে পারেন বলে কেউ কেউ মনে করছেন। তবে জানা গেছে, অস্ট্রেলিয়ায় সরকারি চাকরিতে আছেন শামারুহ মির্জা, দেশ-বিদেশের নানা জার্নালে তার গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে এবং নিজে নির্বাচনে দাঁড়াতে তার খুব একটা আগ্রহ নেই। এ কারণে পরিবার থেকে মির্জা ফয়সাল আমিনের প্রার্থী হওয়া প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে মির্জা ফয়সাল আমিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ১৯৭৯ সালে তার বাবা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সময় তিনি স্কুলছাত্র ছিলেন, তখন থেকেই তার রাজনীতি; তাদের পরিবার ব্রিটিশ আমল থেকে রাজনীতিতে, বাবা ছিলেন জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বড় ভাইও জেলা বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন, আর তিনি সহসভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক থেকে এখন সভাপতির দায়িত্বে। তার ভাষ্য, অনেকে তাকে এমপি হিসেবে দেখতে চান, কেউ কেউ চান ভাতিজি শামারুহ মির্জাকে, তবে সবার চাওয়া তাদের পরিবার থেকেই; দল এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হোক, জেলা সভাপতি হিসেবে তিনি নিজের দায়িত্ব পালন করবেন। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীকে জয়ী করার আহ্বান জানিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল এখনই অপপ্রচারে নেমেছে এবং নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে এ বিষয়ে সজাগ থাকতে বলেন।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী দাবি করেন, জেলায় দলে কোনো দিন গ্রুপিং বা বিভাজন ছিল না; প্রধানমন্ত্রী ও মনোনয়ন বোর্ড যাকে বেছে নেবেন, সবাই তার পক্ষেই কাজ করবেন এবং দল জিতবে। জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মামুন উর রশিদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, গত নির্বাচনে ধানের শীষ বিপুল ভোটে জিতেছে, উপনির্বাচনে ব্যবধান আরও বাড়বে বলে তাদের আশা।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য উপনির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্ত করে ফেলেছে। গত রোববার ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াত কার্যালয়ে এক বৈঠকে রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক ও কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম আনুষ্ঠানিকভাবে দেলাওয়ার হোসেনের নাম ঘোষণা করেন; তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি। জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কফিল উদ্দিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনেও দেলাওয়ার হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, প্রস্তুতি চলছে এবং উপনির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে তারা আশাবাদী।