সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ছাত্ররাজনীতিকে আধুনিক ও গণমুখী করার পাশাপাশি শিক্ষার সঙ্গে প্রযুক্তির যথাযথ সমন্বয় ঘটানোর তাগিদ দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ছাত্রদলের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও চারটি তথ্যসমৃদ্ধ বুকলেট উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি। অনুষ্ঠানে তিনি ছাত্রদলের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট jcd.org.bd-এর যাত্রা ঘোষণা করেন।

রিজভী বলেন, ‘একদিনে বা হঠাৎ করে কোনো বিপ্লব সংঘটিত হয় না।’ তার দাবি, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, বাকস্বাধীনতা ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে বেগম খালেদা জিয়া এবং পরে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ১৭ বছর ধরে যে লড়াইয়ের ভিত তৈরি হয়েছিল, জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার রক্ত ঝরানো বিপ্লব ছিল সেই লড়াইয়েরই চূড়ান্ত রূপ।

রিজভীর অভিযোগ, গত দেড় দশকে বিএনপির হাজার হাজার নেতা-কর্মী গুম-খুনের শিকার হয়েছেন, মিথ্যা মামলা ও কারাবাসে নিপীড়িত হয়েছেন। দলের সেই ত্যাগের ওপর দাঁড়িয়েই শিক্ষার্থী, শ্রমিকসহ সর্বস্তরের মানুষের অভূতপূর্ব গণজাগরণ সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

সময়ের সঙ্গে নতুন প্রযুক্তি রপ্ত করা ও অভিজ্ঞতা অর্জনকেই শিক্ষার আসল লক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন, প্রযুক্তি আয়ত্ত না করলে ছাত্রসমাজ সময়ের তুলনায় পিছিয়ে থাকবে। ছাত্রদলের প্ল্যাটফর্মটি কেবল সংগঠনের ভেতরের তথ্যে আটকে না থেকে দেশ ও বিশ্বরাজনীতির গতিপ্রকৃতি বোঝা এবং শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক শিক্ষার মান বাড়াতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করেন তিনি।

প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রেসিডেন্সি কলেজ পর্যন্ত ইতিহাসের নানা বাঁকে ছাত্ররাজনীতি গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার আদায়ের বড় হাতিয়ার ছিল বলে মন্তব্য করেন রিজভী। তার দাবি, ১৬-১৭ বছরের নিপীড়ন, হামলা ও মামলার মধ্যেও ছাত্রদল শিক্ষা ও আধুনিক প্রযুক্তিকে মেলাতে পেরেছে।

নতুন ওয়েবসাইটে সারা দেশের সাংগঠনিক কর্মসূচির ইভেন্ট ম্যাপ, কেন্দ্রসহ বিভিন্ন ইউনিটের পরিচিতি, প্রেস রিলিজ এবং শিক্ষার্থীদের মতামত জানানোর কমপ্লেইন ফর্ম রাখা হয়েছে। প্রকাশিত চারটি বুকলেটের রক্তঋণের থলে শীর্ষক অংশে ২০০৯-২০২৩ সময়ের রাজনৈতিক নিপীড়নের চিত্র এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ে নিহত ছাত্রদলের ১৪২ জনসহ বিএনপির প্রায় ৪৫০ জনকে শহীদ হিসেবে উল্লেখ করে তালিকা দেওয়া হয়েছে। ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির সঞ্চালনা করেন।