ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে দলীয় প্রশাসক বসানো অব্যাহত থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করে নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের বিবৃতিসহ বার্তাটি বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) পাঠান কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সিনিয়র প্রচার সহকারী মুজিবুল আলম।

বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকার গভীর ষড়যন্ত্র করছে। তার ভাষ্য, জুলাই বিপ্লবের পর দেশ গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরেছে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের মধ্য দিয়ে, আর মানুষ চায় স্থানীয় সরকারেও দ্রুত নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্ব নিয়ে সেবা পৌঁছে দিন।

পরওয়ারের অভিযোগ, ক্ষমতায় এসে বিএনপি সরকার গণভোটের রায় উপেক্ষা করেছে এবং স্থানীয় সরকারে কর্তৃত্ব কায়েম ও নির্বাচন পেছানোর উদ্দেশ্যে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের পর এবার ইউনিয়ন পরিষদেও প্রশাসক বসিয়ে যাচ্ছে। এ সিদ্ধান্তকে জাতির জন্য চরম উদ্বেগের বলে উল্লেখ করে তিনি এর তীব্র নিন্দা জানান।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের হিসাব তুলে ধরে তিনি জানান, দেশে ইউনিয়ন পরিষদ আছে সাড়ে চার হাজারের বেশি, এর মধ্যে এখন প্রায় ৩১১টিতে নির্বাচন করা যায়। তবু ভোটের আয়োজন না করে দলীয় প্রশাসক বসানোকে তিনি মানুষের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার নীলনকশা বলে আখ্যা দেন।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, অন্তত ৩৮টি ইউনিয়ন পরিষদে গত দুই মাসে প্রশাসক বসানো হয়েছে, যার মধ্যে সাতটি নবগঠিত ইউনিয়ন; গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী প্রশাসক বসানো ইউনিয়নগুলোর ১৯টি বরিশাল জেলার। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ইউনিয়নে স্থানীয় সরকার বিভাগ ১২ জন বিএনপি নেতা-নেত্রীকে পরিষদ সদস্য পদে বসিয়েছে, যাকে তিনি গণতান্ত্রিক পথ দীর্ঘ মেয়াদে রুদ্ধ করার ষড়যন্ত্রের অংশ বলেন।

তিনি মনে করিয়ে দেন, চলতি বছরের মধ্যে স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরে নির্বাচনের কথা জানিয়েছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম; অথচ বছরের চার মাস বাকি থাকতেও মন্ত্রণালয় প্রশাসক বসানো থামায়নি। একে তিনি জাতির সঙ্গে প্রতারণা, দলীয় নেতাকর্মীদের লুটপাটের সুযোগ তৈরি এবং আসন্ন নির্বাচনে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার কৌশল বলে অভিযোগ করেন।

স্থানীয় সরকারের সব স্তর থেকে দ্রুত দলীয় প্রশাসক প্রত্যাহার এবং নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানান তিনি।