ছয় দফা দাবিতে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ লংমার্চ করবে ১১ দলীয় ঐক্য, যাতে প্রায় দেড় হাজার গাড়ি অংশ নেবে বলে আয়োজকেরা জানিয়েছেন। জোটের দাবির তালিকায় আছে গণভোটের রায় কার্যকর করা, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের সংকট দূর করা, দ্রব্যমূল্যের লাগাম টানা, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি এবং সংকীর্ণ দলীয়করণের অবসান।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জোটের শেষ প্রস্তুতি বৈঠকের পর সাংবাদিকদের কর্মসূচির বিস্তারিত জানান লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি জানান, সকাল ৭টায় শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশের পর বহর রওনা দেবে; পথে পথসভার জন্য নির্ধারিত জায়গাগুলো হলো নারায়ণগঞ্জের কাচপুর ব্রিজের কাছের ট্রাকস্ট্যান্ড, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল এবং মিরসরাই। শেষ জনসভা হবে চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে।
পরওয়ার বলেন, তাদের কাছে আসা খবর অনুযায়ী লংমার্চে জনতার ঢল নামবে এবং সার্বিক প্রস্তুতি এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দলের অধীনে থাকা প্রশাসন ও বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্ব মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার গঠনের পর থেকে বিরোধী দল সংসদের ভেতরে-বাইরে নিয়মতান্ত্রিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখছে বলেও দাবি করেন তিনি।
পরওয়ারের হুঁশিয়ারি, সরকারি দল বা অন্য কেউ কর্মসূচিতে বিঘ্ন ঘটালে মানুষের আস্থা আরও কমবে এবং তাদের জনরোষের মুখোমুখি হতে হবে। তবে ১১ দল সরকার হটানোর আন্দোলন করছে না জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের চাওয়া গণভোটের রায় মেনে নেওয়া; সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমাদের ছয় দফা আপনারা মেনে নিন।’
সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, সরকার গঠনের ছয় মাস পেরোলেও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কোনো পদক্ষেপ নেই, উল্টো সরকার এ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তার দাবি, গণভোটের রায়ে কোনো নোট অব ডিসেন্ট নেই এবং বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট গণভোটেই খারিজ হয়ে গেছে। ক্ষমতার পালাবদলের পর সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা আছে, সেটি প্রমাণ করা দরকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এখন পর্যন্ত লংমার্চ ঘিরে নাশকতার আশঙ্কা করছেন না জানিয়ে পরওয়ার বলেন, ১১ দলের পক্ষ থেকে পুলিশের মহাপরিদর্শককে লিখিতভাবে কর্মসূচির কথা জানানো হয়েছে। শৃঙ্খলা রক্ষায় ঠিক হয়েছে, বহরের ডেলিগেটরা নেমে পথসভায় যাবেন না, স্থানীয় শাখাগুলো পথসভা আয়োজন করবে এবং প্রতিটি গাড়িতে নির্দিষ্ট স্টিকার থাকবে। চলন্ত বহরের মাঝে কোনো গাড়ি ঢুকতে পারবে না, নতুন গাড়ি যোগ দেবে একেবারে পেছনে; গণমাধ্যমের গাড়িও বহরে থাকার সুযোগ পাবে।
প্রস্তুতি বৈঠকে জোটের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ ছাড়াও এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী (মুখ্য সমন্বয়ক), এলডিপির বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী (ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব), এবি পার্টির আব্দুল্লাহ আল মামুন (যুগ্ম মহাসচিব), বাংলাদেশ লেবার পার্টির ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান (চেয়ারম্যান) এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মাওলানা ফখরুল ইসলাম (মহাসচিব)সহ জোটের নেতারা ছিলেন। বৈঠক থেকে নেতাকর্মী ও দেশবাসীকে ধৈর্য, সাহস ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে শান্তিপূর্ণভাবে লংমার্চে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।






