জাতিসংঘের আসন্ন ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই সফর ঘিরে দেশটিতে থাকা বাংলাদেশিদের মধ্যে উৎসাহ তৈরি হয়েছে; সরকারপ্রধানের সঙ্গে বসে বিদ্যুৎ-জ্বালানিসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহায়তা ও বিনিয়োগ নিয়ে কথা বলতে চান তারা।

সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল আলাপে এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ইমরানুল হক চাকলাদার, যিনি ফ্লোরিডা স্টেট বিএনপির সভাপতি। মুন্সীগঞ্জে জন্ম নেওয়া এই নেতা কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন; সেখানে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে জ্বালানিসহ নানা খাতে তার বড় বিনিয়োগ রয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা চাকলাদার গত ১৬ বছর যুক্তরাষ্ট্রে দলের আন্দোলন কর্মসূচিতে টানা সক্রিয় ছিলেন।

চাকলাদার বলেন, প্রায় বিশ বছর পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্র সফরে আসছেন; তাকে দেখতে বিভিন্ন স্টেট থেকে বহু নেতাকর্মী নিউইয়র্কে যাবেন। নির্ধারিত সূচির কর্মসূচির পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী প্রবাসীদের সঙ্গেও বসবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন; ডাক পেলে দেশের সংকট ও প্রবাসীদের নানা সমস্যা নিয়ে কথা বলতে প্রস্তুত তারা। প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতির কথাও জানান তিনি।

বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রবাসীরা সব সময়ই দেশে বিনিয়োগে আগ্রহী, কিন্তু অনুকূল পরিবেশের ঘাটতিসহ নানা কারণে তা প্রত্যাশামতো হয় না। এখন জনগণের সরাসরি ভোটে বিএনপি সরকার গঠিত হওয়ায় প্রবাসীদের আগ্রহ অনেক বেড়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, প্রবাসীদের অনেকে ১০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সামর্থ্য রাখেন, তাই তাদের আস্থার জায়গা তৈরি করতে হবে; অথচ শ্রমিকের মজুরি অন্য দেশের তুলনায় কম হলেও দেশে একটি ভালো গাড়ির কারখানাও নেই।

ব্যাংক খাতের বেহাল অবস্থা ও অর্থনীতির নাজুক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে চাকলাদার বলেন, এ ক্ষেত্রেও সরকার প্রবাসীদের কাজে লাগাতে পারে; অনেকে বিনিয়োগ করতে চাইলেও আস্থা পান না, তাই সরকারকে আরও মনোযোগী হতে হবে। তার মতে, দেশের সবচেয়ে বড় সংকট এখন বিদ্যুৎ-জ্বালানি এবং রোহিঙ্গা সমস্যা। নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ পেলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট কাটাতে নির্দিষ্ট রূপরেখা তুলে ধরতে চান তারা।

প্রবাসে থাকা মেধাবী বাংলাদেশিদের নিয়ে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে সরকার কাজ করতে পারে বলে পরামর্শ দেন এই বিএনপি নেতা। জুলাইযোদ্ধাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে না দেখে আস্থায় রাখা এবং সংকট নিরসনে সরকার যে কাজ করছে তা জনগণকে বোঝানোর ওপরও জোর দেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে বিশেষ দূত নিয়োগেরও পরামর্শ দেন চাকলাদার; জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে সাইডলাইনে ডিপ স্টেটের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কথা বলা জরুরি বলে মনে করেন তিনি। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেটে কৃষি ও খামারে শ্রমিকের ঘাটতি থাকায় সেখানে চুক্তিভিত্তিক জনশক্তি পাঠানো যায়। প্রয়োজনে দেশে ১০টি কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ে প্রশিক্ষিত কর্মী পাঠানোর মতো প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় তারা তুলে ধরবেন বলে জানান তিনি।