গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার কমিশন নিয়ে করা ‘দুর্বল’ আইন একদিন সরকারের দিকেই বুমেরাং হয়ে ফিরবে বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার—এই তিন বিল সংসদে পাসের প্রতিবাদে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে রাজধানীর বিজয়নগরে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

মঞ্জুর অভিযোগ, উন্নত আইনের আশ্বাস দিয়ে জনগণকে ঠকানো হয়েছে এবং একের পর এক প্রতিশ্রুতি ভাঙা হচ্ছে। ক্ষমতা কারও জন্য স্থায়ী নয় মন্তব্য করে তিনি মনে করিয়ে দেন, আজ যারা ক্ষমতায়, ভবিষ্যতে তারাও ক্ষমতার বাইরে চলে যেতে পারেন।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গুম প্রতিরোধ ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন নিয়ে মানুষের মধ্যে যে আশা জাগিয়েছিল, নতুন আইনে তার প্রতিফলন ঘটেনি। তার দাবি, আগের অধ্যাদেশ বাতিলের সময় আরও কঠোর আইনের অঙ্গীকার করা হলেও শেষে যে আইন হয়েছে, তা ‘দুর্বল’।

গুমের অভিযোগ যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে, তদন্তের ভারও তাদের হাতে থাকলে তা প্রহসনে পরিণত হবে বলে মনে করেন মঞ্জু। গুমের তদন্ত একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সেখানে কর্মকর্তারা বদলি, পদোন্নতি বা চাকরি হারানোর চাপের ভয় ছাড়াই কাজ করতে পারবেন।

সম্পত্তি হস্তান্তর আইন নিয়ে তিনি বলেন, এতে ভবিষ্যতে নানা জটিলতা ও বিরোধ তৈরির আশঙ্কা আছে; দান করা সম্পত্তি পরে বিক্রি বা হস্তান্তর করা যাবে কি না, সে প্রশ্নও উঠেছে। আইনের কোনো বিধান মুসলিম আইন বা শরিয়াহর পরিপন্থী কি না, তা খতিয়ে দেখারও আহ্বান জানান তিনি। তিনটি আইনই পুনর্বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবি জানান এবি পার্টির চেয়ারম্যান।

সমাবেশ সঞ্চালনা করেন এবি যুব পার্টির সদস্য সচিব হাদীউজ্জামান খোকন। দলের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানাসহ কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন; অঙ্গসংগঠন ও মহানগর শাখার নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।