শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সারা দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (আইএবি)। জীবদ্দশায় ভোগাধিকার বহাল রেখে সম্পত্তি হস্তান্তরের যে নতুন বিধান করা হয়েছে, তা বাতিলের দাবিতে এ কর্মসূচি।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পুরানা পল্টনে আইএবি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে কর্মসূচির কথা জানায় দলটি। লিখিত বক্তব্যে নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম সদ্য পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইনকে শরিয়তের পরিপন্থি দাবি করে তা অবিলম্বে বাতিলের আহ্বান জানান।

ফয়জুল করীম অভিযোগ করেন, দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাসের মাথায় কোরআনের অবিসংবাদিত বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক একটি আইন পাস করে জনগণের ধর্মবিশ্বাসে আঘাত করা হয়েছে। হেবার অপব্যবহার কিংবা মা-বাবাকে উচ্ছেদ ঠেকাতে আইন প্রয়োজন হতে পারে, তবে তা শরিয়তবিরোধী হতে পারবে না বলে মত দেন তিনি। আলেম ও আইনবিদদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনটি দ্রুত সংশোধনের দাবিও জানান তিনি।

গত রোববার জাতীয় সংসদে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী পাস হয়। বিলটি কোরআন-সুন্নাহবিরোধী অভিযোগ তুলে বিরোধী দল এর বিরোধিতা করলেও সেই আপত্তি নাকচ করে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের উত্থাপিত বিলটি পাস হয়।

বিল অনুযায়ী, পিতা-মাতা, পিতামহ বা মাতামহ সন্তান বা নাতি-নাতনিকে (কিংবা উল্টো দিক থেকে) অথবা স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে সম্পত্তি দান করলে দাতা আমৃত্যু তা ভোগ করবেন। দাতার জীবদ্দশায় গ্রহীতা মারা গেলেও ভোগাধিকার বহাল থাকবে, আর সম্পত্তি আইন মেনে পাবেন গ্রহীতার ওয়ারিশরা।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ-সংবলিত বিবৃতিতে আইনমন্ত্রী বলেছেন, প্রচলিত আইনে এমন দানের সুনির্দিষ্ট বিধান নেই। নতুন পদ্ধতিটি সব ধর্মের মানুষের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে এবং সাধারণ দান, হেবা বা অন্য কোনো স্বীকৃত হস্তান্তর পদ্ধতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে না বলে জানান তিনি।