ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ বাংলাদেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীরই অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দল তাঁকে সংগঠনের উপদেষ্টা হওয়ার আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানালে তিনি এ কথা বলেন।
সংগঠনকে আরও গতিশীল, গোছানো ও বিস্তৃত করার উদ্দেশ্যে সংগঠনটির নিজস্ব সিদ্ধান্ত ও রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পরামর্শ মেনে অনুরোধটি করা হয়। অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন মাহমুদুর রহমান সুমন, যিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-অর্থনৈতিক সম্পাদক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী সংগঠনের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, তাঁরা কেবল একটি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষ নন, গোটা দেশের জনগোষ্ঠীরই অংশ। দেশের সংবিধান তাঁদের সমান অধিকার দিয়েছে, তাই তাঁদের অধিকার, মর্যাদা ও স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের পাশাপাশি সবার বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের অভাব-অভিযোগ, দাবি ও প্রত্যাশার কথা মন দিয়ে শোনেন রিজভী। ন্যায্য দাবি পূরণে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রে তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর জোর দেন তিনি।
২০০৭ সালে সমতলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষকে সংগঠিত করতে দলটি গড়ে ওঠে। এর পেছনে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, যিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন এবং এখন প্রয়াত। ২০২৪ সালের ৩০ জুন বিএনপি এটিকে সহযোগী সংগঠনের স্বীকৃতি দেয়, আর একই বছরের ১৮ ডিসেম্বর দলের মহাসচিব সংগঠনটির সংশোধিত কেন্দ্রীয় কমিটিতে অনুমোদন দেন।
এরই মধ্যে ঢাকা মহানগর, ময়মনসিংহ, সিলেট, রাজশাহী, দিনাজপুর ও রংপুরসহ বেশ কয়েকটি জেলায় সংগঠনটির জেলা বা সাংগঠনিক কমিটি হয়েছে। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বসবাস আছে এমন অন্য জেলাগুলোতেও ধাপে ধাপে কমিটি গঠন করা হবে।
নেতাদের প্রত্যাশা, রিজভীর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সংগঠন চালানোর দক্ষতা তাঁদের কাজকে আরও মজবুত করবে এবং ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অধিকার আদায়, প্রতিনিধিত্ব ও রাজনীতিতে অংশগ্রহণ বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। এ জন্য তাঁর সার্বিক সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা চেয়েছেন তাঁরা।






