দেশের বাইরে এক পয়সার বিনিয়োগ বা ব্যাংকে রাখা অর্থ, ভিলা কিংবা জমি তো দূরের কথা, একটি ধূলিকণার প্রমাণ মিললেও তিনি রাজনীতি ছাড়বেন, এমন ঘোষণা দিয়েছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, যিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি আরও লেখেন, ‘যা শাস্তি হবে মাথা পেতে নেব।’

পোস্টে আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, বিদেশে রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের সম্পত্তির খোঁজ এর আগেও বহু অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও সরকার বের করেছে, ফলে সরকারের সে সক্ষমতা আছে এবং কাজটি জটিল কিছু নয়। তার প্রশ্ন, রাজনৈতিকভাবে কতটা দেউলিয়া হলে এআই দিয়ে তৈরি ভুঁইফোঁড় আজকের কণ্ঠের ৭ মাস আগের একটি ফেসবুক পোস্ট কপি করে অনুসন্ধান শুরু করা যায়।

সরকারের উদ্দেশে এনসিপির এই নেতার অভিযোগ, মাত্র ৬ মাসেই রাজনৈতিকভাবে বিরোধী দলকে সামলাতে না পেরে এবং দেশ চালাতে চরম ব্যর্থতা দেখিয়ে নিজেদের সন্তানদের প্রকাশ্য দুর্নীতি আড়াল করতেই এই নাটক সাজানো হয়েছে। বিরোধী দল দমনের বর্তমান পদ্ধতির সঙ্গে আওয়ামী লীগ আমলের দমনের কী পার্থক্য, সে প্রশ্নও রাখেন তিনি।

এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা পড়া এক আবেদনে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অর্থ পাচারের নানা অভিযোগ আনা হয়। এসব অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক; বিষয়টি রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) নিশ্চিত করেছেন সংস্থাটির সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ।

আবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকার সময় তিনি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্রে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ হারে কমিশন নিয়েছেন এবং ঢাকা দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের দরপত্র বাণিজ্যে জড়িত ছিলেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক বসাতে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং দেশজুড়ে ৩৬ জন জেলা প্রশাসকের (ডিসি) পদায়ন ঘিরে ২ থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগও তোলা হয়েছে।

পাচারের বিষয়ে অভিযোগে বলা হয়েছে, ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা দুবাইয়ে, ৩ হাজার কোটি সিঙ্গাপুরে, ২ হাজার কোটি অস্ট্রেলিয়ায় এবং ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সুইজারল্যান্ডে নিয়ে বিলাসবহুল ভিলা কেনা ও নানা ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে। এ কাজে তার দুই বোনজামাই ও ভাগ্নেকে ব্যবহারের অভিযোগও আছে। নিজ উপজেলা মুরাদনগরের জন্য গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্পে ৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ এবং সেই বরাদ্দ ও গ্রহণ প্রক্রিয়ার অনিয়ম নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে আবেদনে।

আসিফ মাহমুদ উপদেষ্টা পরিষদে এসেছিলেন ছাত্রদের প্রতিনিধি হয়ে, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের সময়; তার আগে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে। প্রথমে তার হাতে ছিল যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, ২০২৪ সালের নভেম্বরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় তার দায়িত্বে আসে। ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর উপদেষ্টার পদ ছেড়ে তিনি এনসিপিতে যোগ দেন এবং বর্তমানে দলটির মুখপাত্র।