আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা সংশোধনের প্রস্তাবে জাতীয় সংসদে ‘না’ ভোট না দিয়ে জামায়াতে ইসলামী একাত্তরে নিজেদের ভূমিকা পরোক্ষভাবে স্বীকার করে নিয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে গুলশানের একটি হোটেলে প্রয়াত ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের লেখা ‘বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। রাজ্জাক ছিলেন জামায়াতের সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল।
মন্ত্রী জানান, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) আইন-২০২২-এ মুক্তিযোদ্ধার যে সংজ্ঞা ছিল, তাতে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাকামী মানুষের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থানের উল্লেখ ছিল; ২০২৫ সালে আইনটিতে কিছু সংশোধনী আনা হয়।
আসাদুজ্জামানের ভাষ্য, ত্রয়োদশ সংসদে ২০২৬ সালে আইনটি পাসের আগে বিশেষ কমিটিতে আলোচনার সময় সংজ্ঞা থেকে দলের নাম বাদ দেওয়ার দাবি তোলে জামায়াত। তারা তখন বলেছিলেন, ঐতিহাসিক সত্য অস্বীকার করা যাবে না; পরে আলোচনার একপর্যায়ে সংজ্ঞায় তৎকালীন শব্দটি যোগ করে লেখা হয় তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী, তৎকালীন মুসলিম লীগ ও তৎকালীন নেজামে ইসলাম।
আইনমন্ত্রী বলেন, সংসদে আইন পাসের সময় হ্যাঁ ও না ভোট দিতে হয়, কিন্তু এই সংশোধনীর ক্ষেত্রে জামায়াত কোনো না ভোট দেয়নি। তার মতে, এর মধ্য দিয়েই দলটি একাত্তরের ভূমিকা পরোক্ষভাবে মেনে নিয়েছে।
প্রয়াত রাজ্জাক ১৯৭১ সালের অপরাধের জন্য জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বকে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন, যার তথ্য তার বইয়েও এসেছে। আসাদুজ্জামান জানান, ২০১৬ সালে একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকা জাতির সামনে আনতে রাজ্জাক একটি বিবৃতির খসড়া করেছিলেন; সংসদীয় প্রক্রিয়ায় জামায়াতের এবারের অবস্থানে রাজ্জাকের দূরদর্শিতাই প্রকাশ পেয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
সেই বিবৃতিতে তখন স্বাক্ষর হলে জামায়াতকে ঘিরে অনেক প্রশ্নের সমাধান হতো বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। বইটিকে ‘জ্ঞানকোষ’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এটি তার কাছে সাহিত্য বা গবেষণাগ্রন্থের চেয়ে বরং একজন জীবন্ত মানুষের এনসাইক্লোপিডিয়ার মতো, যেখানে লেখকের জীবনদর্শন ফুটে উঠেছে। ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থার চিন্তার সঙ্গে দ্বিমত থাকতে পারে উল্লেখ করেও তিনি বইটিকে একজন আইনবিদের জন্য লেখা গদ্য হিসেবে মূল্যায়ন করেন।






