আলেমরা শুধু মসজিদ-মাদ্রাসার খেদমতে নিজেদের আটকে রেখে সাধারণ মানুষ থেকে দূরে থাকলে ইসলাম পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে না বলে সতর্ক করেছেন শায়খুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক কাসেমি। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) পটুয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমি হলে জেলা জমিয়তের প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ মন্তব্য করেন।
মাওলানা মো. আবদুল হক কাওসারী (জেলা জমিয়তের সভাপতি) সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন। আলেমসমাজ ও জমিয়তের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজে দ্বীন প্রতিষ্ঠা করতে হলে মসজিদের মিম্বর থেকে মাঠ-ময়দান পর্যন্ত সব জায়গায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশতে হবে এবং জাতি-ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ না করে সবার কল্যাণে কাজ করতে হবে।
উপমা টেনে তিনি বলেন, ‘উলামায়ে কেরাম হলেন জাতির ব্রেইন বা মাথা।’ মস্তিষ্ক পরিকল্পনা করে নির্দেশ দেয়, আর শরীর তা বাস্তবায়ন করে; সাধারণ মানুষ ও সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিতদের সঙ্গে আলেমরা মিলেমিশে না থাকলে সেই শরীর পূর্ণ হয় না বলে ব্যাখ্যা দেন তিনি।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন একটি মাথা কতক্ষণ টিকে থাকতে পারে, আর তাতে দ্বীনই বা কীভাবে প্রতিষ্ঠা পাবে। শুধু নিরিবিলিতে মাদ্রাসায় পড়ানো আর মসজিদ চালানোর মধ্যে নিজেদের আটকে রাখলে একসময় মসজিদ-মাদ্রাসাও টিকবে না বলে সতর্ক করেন তিনি।
জমিয়ত সভাপতির মতে, দেশের মানুষ বা সরকার না চাইলে কোনো আলেমের পক্ষে নিজের মাদ্রাসা টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তাই মসজিদ-মাদ্রাসা রক্ষা এবং ইসলামবিরোধী চক্রের হাত থেকে জাতিকে হেফাজতের জন্য প্রত্যেক আলেমকে নবীর উত্তরাধিকারী হিসেবে সাধারণ শিক্ষিতদের প্রয়োজনীয় দ্বীনি বিষয় বোঝাতে এবং আমজনতাকে সঙ্গে নিয়ে চলতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সম্মেলন যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক (জেলা জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক) ও মাওলানা আবুল বশার কাসেমি (সহসাধারণ সম্পাদক)। প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী; বিশেষ অতিথি ছিলেন মুফতি শেখ মজিবুর রহমান ও মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব (দুজনই কেন্দ্রীয় সহসভাপতি)।
সম্মেলনে জেলার নানা উপজেলা ও শাখার নেতারা নিজ এলাকার সাংগঠনিক কাজের প্রতিবেদন, মাঠের পরিস্থিতি ও আগামী পরিকল্পনা তুলে ধরেন। বক্তারা সংগঠনকে আরও গতিশীল করা, তৃণমূলে কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়া এবং দায়িত্বশীলদের যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের ওপর জোর দেন।






