২০২৬-২০২৭ সেশনের জন্য বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের নতুন নেতৃত্ব ঠিক হয়েছে। সদস্যদের ভোটে কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন জাকারিয়া হোসাইন জাকির, আর সেক্রেটারি জেনারেল পদে মনোনয়ন পেয়েছেন মুহাম্মদ ইসমাঈল খন্দকার।

ঢাকায় শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনের শেষ অধিবেশনে নতুন সভাপতির নাম জানানো হয়। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) অনলাইনে সারা দেশের সদস্যদের সরাসরি ভোট নেওয়া হয় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত; শনিবার দুপুর সাড়ে ৩টায় কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচন ২০২৬-এর ফল প্রকাশ করে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন।

কমিশনে ছিলেন সংগঠনের তিন সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি—মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, অধ্যাপক মো. আবদুল জলিল ও প্রকৌশলী আবদুল হাফিজ খসরু। জাকারিয়া হোসাইন জাকিরের সভাপতিত্বে হওয়া সমাপনী অধিবেশনের প্রধান অতিথি খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ নবনির্বাচিত সভাপতিকে শপথ পড়ান।

বক্তব্যে আব্দুল বাছিত আজাদ বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের মূল ভিত্তি ছাত্রসমাজ; তাই জ্ঞান, নৈতিকতা, আদর্শ ও দেশপ্রেম মিলিয়ে তাদের গড়ে তুলতে হবে। সব স্তরের শিক্ষায় কোরআন ও দরকারি ধর্মীয় শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ করার ওপর জোর দেন তিনি।

মেধা ও যোগ্যতার সঠিক মূল্যায়নের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রের অনিয়ম, দুর্নীতি ও বৈষম্য দূরীকরণে কার্যকর পদক্ষেপ দরকার এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, অধিকার ও দায়িত্ববোধ নিয়ে সচেতন করতে হবে। নতুন নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি তাকওয়া, আমানতদারিতা, ত্যাগ ও নিষ্ঠা নিয়ে দায়িত্ব পালনের এবং ছাত্রসমাজের পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।

অধিবেশন পরিচালনা করেন নবমনোনীত সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ ইসমাঈল খন্দকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন ড. আহমদ আবদুল কাদের (খেলাফত মজলিসের মহাসচিব), মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন (দলটির সিনিয়র নায়েবে আমির), অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন (খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব) ও প্রভাষক আব্দুল করিম (শ্রমিক মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি)। সদ্য বিদায়ী কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ রায়হান আলীসহ সংগঠনের সাবেক সভাপতি ও সেক্রেটারি জেনারেলরাও উপস্থিত ছিলেন।