জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের দ্রুত সুরাহা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পল্টনে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলের আগে সমাবেশ করে দলটির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা।
সমাবেশে দলটির সহকারী মহাসচিব শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, ৭ মাসের ব্যবধানে সরকার দুই দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। এর সুযোগে তেলসংশ্লিষ্ট অসাধু চক্র ভোগান্তি বাড়াচ্ছে এবং গাড়িভাড়া ও নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে জীবনযাত্রায় বিরূপ প্রভাব পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মারুফের মতে, অস্বাভাবিক হারে দাম বাড়ানো সংকট মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতারই প্রতিফলন। নানা দেশে যুদ্ধ চললেও গত এক সপ্তাহে রোববার ও সোমবারই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ছিল সবচেয়ে কম—এ কথা উল্লেখ করে কাদের সুবিধা দিতে এ সিদ্ধান্ত, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি। ঠুনকো অজুহাতে দাম বাড়ানোকে সরকারের জনবিচ্ছিন্নতার প্রমাণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মারুফ আরও দাবি করেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের পর অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ডে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সরকারের অসহায়ত্ব স্পষ্ট। তাঁর মতে, শরিয়াহ আইন বাস্তবায়িত না হলে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা চলতেই থাকবে।
নগর সেক্রেটারি কে এম শরীয়াতুল্লাহ বলেন, ইউক্রেন ও ইরান যুদ্ধের মতো কারণ দেখিয়ে, কখনো আগের সরকারের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে সরকার দায়িত্ব এড়াতে চাইছে বলে মনে হচ্ছে, অথচ তখন জ্বালানির দাম ও সংকট এতটা প্রকট ছিল না। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা সাংবাদিকদের সামনে উদ্ভট কথা বলে সংকট উসকে দিচ্ছেন অভিযোগ করে তিনি পতিত ফ্যাসিবাদের পরিণতির কথা মনে করিয়ে দেন এবং সতর্ক করেন, ‘স্ফুলিঙ্গ থেকে দাবানল হতে বেশি সময় লাগবে না।’
নগর দপ্তর সম্পাদক মাওলানা নাজিমুদ্দিন সমাবেশ সঞ্চালনা করেন। আরও বক্তব্য দেন আহমদ আবদুল কাইয়ূম (আইএবির সহকারী মহাসচিব), মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী (দপ্তর সম্পাদক), ফয়জুল ইসলাম (ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের জয়েন্ট সেক্রেটারি), আলহাজ এম এইচ মোস্তফা (নগর সহসভাপতি), মাওলানা নজরুল ইসলাম খোকন (সাংগঠনিক সম্পাদক) ও মাওলানা নিজামুদ্দিন।






