রাজনৈতিক বক্তব্যে শালীনতার তাগিদ দিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন, প্রতিপক্ষকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করা যায়, কিন্তু ব্যক্তিগত অবমাননা চলে না।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) প্রয়াত সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীর দোয়া ও আলোচনা সভায় তিনি বক্তব্য দেন।

রিজভী বলেন, অতীতে বিরোধী নেতাদের হেয় করে সম্বোধনের যে চর্চা ছিল, তার পুনরাবৃত্তি কাম্য নয়; কথায় কঠোরতা থাকলেও ভাষা হতে হবে মার্জিত। গণতন্ত্রে বিরোধী দলের সভা-সমাবেশ ও মিছিলের অধিকারকে মতভিন্নতা সত্ত্বেও সম্মান জানাতে হবে বলে মত দেন তিনি।

সাম্প্রতিক লংমার্চের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, বিরোধী দলের কর্মসূচিতে কোনো রকম বাধা না দিতে বিএনপি তার নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছিল। গণতন্ত্রে বিশ্বাস থাকলে বিরোধী দলকে কর্মসূচি পালন ও কথা বলার সুযোগ দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে রিজভী বলেন, বাংলাদেশ যেন কারও ওপর নির্ভরশীল না হয় কিংবা অন্য কোনো রাষ্ট্রের পিছনের উঠানে পরিণত না হয়; নিজের পররাষ্ট্রনীতি দেশকেই ঠিক করতে হবে এবং অর্থনৈতিক সংকট নিজেদের সামর্থ্যে মোকাবিলা করতে হবে।

তার মতে, দলগুলোর মতভেদ থাকবেই, তবে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের মতো মৌলিক প্রশ্নে ন্যূনতম ঐকমত্য দরকার। ভবিষ্যতে যে দলই ক্ষমতায় আসুক, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করতে হবে এবং অতীতের কর্তৃত্ববাদী পরিস্থিতি যেন না ফেরে, সে ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে।

সভায় কবি আবদুল হাই শিকদার (দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার সম্পাদক), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভুঁইয়াসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।