বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কেউ সন্ত্রাস, দখলবাজি, চাঁদাবাজি বা অন্য অপকর্মে জড়ালে তাকে দলের কর্মী হিসেবে গণ্য করা হবে না এবং তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন নজরুল ইসলাম খান—বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা। ২৮ সেপ্টেম্বর, সোমবার বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মধ্য দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে সমাবেশটি ডাকা হয়।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার সঙ্গে যাঁরা কাজ করেছেন এবং আজ যাঁরা তারেক রহমানের সঙ্গে কাজ করছেন, তাঁরা বুকে হাত দিয়ে বলতে পারেন—নিজের স্বার্থে কোনো অন্যায়, অনাচার, চাঁদাবাজি বা দখলে তাঁরা জড়িত নন। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের প্রকৃত নেতা-কর্মীরাও এসবে জড়িত নন বলে দাবি করে তিনি বলেন, শহীদ জিয়া, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের প্রকৃত কর্মী সন্ত্রাসী, দখলবাজ বা চাঁদাবাজ হতে পারে না; কেউ হলে সে বিএনপি নয়।

কারও কর্মকাণ্ডে বিএনপির সমালোচনার সুযোগ তৈরি হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সরকারের কাছে দাবি জানান তিনি। দেশে বিশৃঙ্খলা হলে শ্রমজীবী মানুষই সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, শিল্প-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও মানুষের আয়ে এর ধাক্কা পড়বে; তাই শান্তি ও অর্থনীতির ধারা ধরে রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি আমিনুল হক, যিনি ক্রীড়া মন্ত্রী ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক, বলেন, যারা চাঁদাবাজি বা দখলদারি করে, তারা কোনোভাবেই বিএনপির কেউ হতে পারে না; এমন অপরাধীদের প্রশ্রয় দেওয়া হবে না এবং নিজেদের দলের কেউ জড়ালে তার বিরুদ্ধেও সবাই মিলে রুখে দাঁড়াবেন। জনগণের রায় নিয়েই প্রতিটি কাজ করা হবে এবং বিগত ১৭ বছরের লড়াইয়ের মতো ঐক্যবদ্ধভাবে সব অন্যায় ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস (সমন্বয়ক), মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু (প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক), তানভীর আহমেদ রবিন (ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব)সহ অন্য নেতারাও বক্তব্য দেন।