প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে সংরক্ষিত নারী আসনের পদ ছাড়তে নির্দেশ দিয়েছেন; বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা-ভাঙচুরে রাজনৈতিক যোগসাজশের অভিযোগ ওঠার পর থেকে আলোচনায় থাকা এই সংসদ সদস্যের উত্থান ও মিরপুরের রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে কথা হচ্ছে।
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ থেকে নির্বাচিত মিষ্টি সংসদের দুটি কমিটির সদস্য। বিএনপি তাঁকে মনোনয়ন দেয় ২০২৬ সালের এপ্রিলে, আর তিনি শপথ নেন ২০২৬ সালের ৩ মে; সংসদ সদস্য হিসেবে এটিই তাঁর প্রথম মেয়াদ।
মিষ্টির জন্ম ১৯৭৪ সালের ১৫ জানুয়ারি, পেশায় তিনি ব্যবসায়ী। বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে পড়ার সময় ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে রাজনীতিতে সক্রিয় হন, পরে কলেজ ছাত্র সংসদে এজিএস পদে জয়ী হন এবং স্নাতক শেষ করে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিতে বড় সাংগঠনিক দায়িত্ব পান, সদ্য বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন এবং মিরপুরের রাজনীতিতে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
তাঁর স্বামী সাইদুর রহমান নিউটন ছাত্রদলের রাজনীতি করতেন; জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক এই সহ-সভাপতি ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার ছিলেন। ২০০২ সালের ১০ মে ধানমন্ডির অর্কিড প্লাজার সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়, এরপর ওই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন মিষ্টি। তিনি ঢাকা-৮ আসনের বিএনপির প্রয়াত সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর বোন; ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহের (পিলখানা হত্যাযজ্ঞ) মামলায় যাবজ্জীবন সাজা হওয়া পিন্টু ২০১৫ সালের ৩ মে রাজশাহী কারাগারে মারা যান।
২৪ সেপ্টেম্বর দিনগত রাতে মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে সেটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়; এতে সরকারি দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীর জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। সরকার ও বিএনপি ঘটনার তদন্তের কথা জানিয়েছে, আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, মিষ্টির বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তাধীন এবং কারও সংশ্লিষ্টতা মিললে ছাড় দেওয়া হবে না।
দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকেই মিষ্টিকে সংসদ সদস্য পদ ছাড়তে বলা হয়েছে, দেরি করলে দলীয়ভাবে আরও কড়া ব্যবস্থার মুখে পড়তে পারেন তিনি। তবে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য বা কখন পদত্যাগপত্র দেবেন, সে সম্পর্কে তখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি; রাড্ডার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।






