জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক কাসেমি বলেছেন, সমমনা ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে জোটবদ্ধ হয়ে কাজ করতে তাঁর দল সবার আগে প্রস্তুত। শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে দলের শূরা অধিবেশন ২০২৬-এ সভাপতির লিখিত বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশ এখন এক সংকটময় সময় পার করছে; সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও মানুষের মৌলিক অধিকার নানা চ্যালেঞ্জের মুখে, আর নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সংকট ও সামাজিক অস্থিরতায় জর্জরিত দেশ। দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, জমিয়ত কারও অন্ধ অনুসারী নয়, আবার শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতাও করে না।

কাসেমি বলেন, দেশ, ইসলাম ও জনগণের স্বার্থে সরকার যে উদ্যোগ নেবে, তা তাঁরা স্বাগত জানাবেন। তবে দ্বীনি ভাবগাম্ভীর্য ক্ষুণ্ণ হলে, মানুষের ওপর নিপীড়ন চললে, দুর্নীতি-দুঃশাসন প্রশ্রয় পেলে কিংবা সার্বভৌমত্ব হুমকিতে পড়লে জমিয়ত জনগণকে নিয়ে রাজপথে সোচ্চার থাকবে বলে জানান তিনি।

বিরোধী দলগুলোর প্রতি দ্বিচারিতা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও পরশ্রীকাতরতা ছেড়ে জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের অধিকারের প্রশ্নে সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি। কোনো অন্যায় বা দেশবিরোধী এজেন্ডায় জমিয়ত শরিক হবে না এবং সাম্রাজ্যবাদী বা আধিপত্যবাদী কোনো শক্তির কাছে বাংলাদেশ মাথা নোয়াতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক প্রসঙ্গে ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, উইঘুর ও আরাকানসহ বিশ্বের নির্যাতিত মুসলমানদের পক্ষে বাংলাদেশের কূটনৈতিক কণ্ঠ আরও জোরালো করার দাবি জানান তিনি। ইরানে আমেরিকার সামরিক অভিযানের নিন্দা করার পাশাপাশি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের ভূমিতে ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন প্রক্সির আগ্রাসী মনোভাব এবং হারামাইন শরীফাইন ঘিরে তাদের দূরভিসন্ধিরও কড়া প্রতিবাদ জানায় জমিয়ত।