এক দিনের রিমান্ড শেষে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে হেনস্তার অভিযোগে করা মামলায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালত শুনানি শেষে রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে এ আদেশ দেন।

রিমান্ড শেষে তাকে প্রথমে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। মামলাটির তদন্ত করছেন বিমানবন্দর থানার উপ-পরিদর্শক মাজেদুল ইসলাম; তিনিই আসামিকে কারাগারে রাখার আবেদন জানান।

জামায়াতপন্থি আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাকসহ ৩০ জনের বেশি আইনজীবী আসামির পক্ষে দাঁড়ান, অন্যদিকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপিপন্থি ৪০ জনের বেশি আইনজীবী। শুনানির আগেই দুই পক্ষের হট্টগোলে বিচারক এজলাস ছেড়ে খাসকামরায় চলে যান।

পরে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী দুই পক্ষকে শান্ত হতে বলেন, কাঠগড়া থেকে আখতারুজ্জামানও হাত জোড় করে সবাইকে থামার অনুরোধ জানান। হট্টগোল থামার পর বিচারক আবার এজলাসে বসেন এবং শুনানিতে ভাঙা গলায় আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আমি অসুস্থ। আমার পক্ষে ১০ জন আইনজীবীকে শুনানি করার অনুমতি দিন।’

আসামিপক্ষ জামিন চাইলেও রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে তাকে কারাগারে রাখার জোর আবেদন জানায়। এর আগে শনিবার তাকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হলে আদালত এক দিন মঞ্জুর করেন।

শনিবার আদালতে তোলার আগে ক্ষোভে মাথার হেলমেট ছুড়ে ফেলে সরকারের অবৈধ আদেশ মানবেন না বলে মন্তব্য করতে এবং পুলিশ সদস্যদের ধমকাতে দেখা যায় তাকে।

১ অক্টোবর বিমানবন্দরে অব্যবস্থাপনা, ট্রলি সংকট, লাগেজে দেরি ও জমজমের পানি না আসা নিয়ে উত্তেজনা থেকে হুমকি-ধমকির ঘটনা ঘটে। এরপর বিশৃঙ্খলা, সরকারি কাজে বাধা ও কর্মকর্তাকে হেনস্তার অভিযোগে মামলা হলে শুক্রবার বিকেলে ক্যান্টনমেন্টের ডিওএইচএসের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।