বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ড দেশপ্রেমিক মানুষের প্রতিবাদী চেতনাকে আরও জোরালো করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্বে থাকা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তার মতে, আবরারের আত্মত্যাগ স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব আর জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় মানুষকে নতুন করে জাগিয়ে তুলেছিল।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাৎবার্ষিকীতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি। রিজভী বলেন, আবরারকে হত্যা করে তখনকার শাসকগোষ্ঠী গোটা জাতিকে ভয় দেখাতে চেয়েছিল; দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রতিবাদ করাই তার অপরাধ বলে গণ্য হয়েছিল, কিন্তু হত্যা করেও সেই প্রতিবাদ থামানো যায়নি।

তার ভাষ্য, এই হত্যাকাণ্ড মানুষকে কাঁদিয়েছে, আবার দেশপ্রেমিক জনতাকে জাগিয়েও তুলেছে, আর সেই ধারাবাহিকতায় তৈরি হয়েছিল ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পটভূমি। আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) বিগত সরকারের কড়া সমালোচনা করে রিজভী অভিযোগ করেন, সে সময় সার্বভৌমত্ব দুর্বল করে প্রতিবেশী দেশের স্বার্থরক্ষার নীতি নেওয়া হয়েছিল এবং তখনকার প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যেই বলেছিলেন, ভারতকে দেওয়া সবকিছু তারা মনে রাখবে। তার দাবি, এই নতিস্বীকারের প্রতিবাদ করার পরিণতিতেই আবরারকে জীবন দিতে হয়।

আবরারের বাবা মো. বরকত উল্লাহ অনুষ্ঠানে তার পাশেই বসেছিলেন জানিয়ে রিজভী বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থী ১৯৯০ সালের রাকসু নির্বাচনে তাকে ভোট দেন বলে জানিয়েছেন; এমন স্মৃতি শুনে তিনি গভীরভাবে আবেগাপ্লুত হন। টলস্টয়ের উদ্ধৃতি টেনে তিনি বলেন, অন্যের কষ্ট অনুভব করতে পারা মানবিক অস্তিত্বের বড় বৈশিষ্ট্য, আর আবরার হত্যার মধ্য দিয়ে সেই বেদনা গোটা জাতি অনুভব করেছিল। ছাত্রদল প্রসঙ্গে তার মন্তব্য, বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন ধারা ধরে রেখে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা রাজপথে বারবার হামলা-নির্যাতন সয়েছেন, কিন্তু গোপন বা ছদ্মবেশী রাজনীতির পথে যাননি।

বিশ্ববিদ্যালয়টির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সভায় বলেন, আবরারকে হত্যা করে তখনকার সরকার ভয়ের বার্তা দিতে চাইলেও ঘটনাটি উল্টো সরকারবিরোধী জনমত গড়ে তোলে; তার মতে, ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনে ভূমিকা রাখা ঘটনাগুলোর একটি আবরারের শাহাদাত। মানবিকতা হারালেই এমন ঘটনা ঘটে মন্তব্য করে তিনি ছাত্রদলকে গত ১৬ বছরের নির্যাতনের অভিজ্ঞতাকে শক্তিতে রূপ দিয়ে রাষ্ট্র এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।

ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব আবরার হত্যাসহ সব রাজনৈতিক খুনের সঙ্গে জড়িত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিচার এবং আবরার হত্যা মামলার রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান। তার দাবি, আবরার হত্যার বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সবার আগে সরব হয়েছিল ছাত্রদলই, বিগত সাড়ে ১৫ বছরে শত শত নেতাকর্মী গুম-খুন হলেও সংগঠনটি রাজপথ ছাড়েনি এবং ভারতীয় আগ্রাসন এ দেশে মেনে নেওয়া হবে না। শেষে আবরারের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে রিজভী ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচ্যগ্র মেদিনী’ প্রবাদটি স্মরণ করিয়ে দেন এবং দেশের স্বার্থবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দেওয়ার আহ্বান জানান।

রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গনেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম এবং আবরারের বাবা মো. বরকত উল্লাহ।