দলের সিদ্ধান্তের আসল লক্ষ্য ছিল তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানা—বিএনপির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলেছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, যিনি এখন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য। শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে বেসরকারি একটি টিভি চ্যানেলের টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি করেন।
উপস্থাপক জানতে চান, এত বছর বিএনপির পক্ষে কথা বলার পর হঠাৎ তার প্রতি দলের ক্ষোভ কেন। জবাবে রুমিন বলেন, এর নানা কারণ থাকতে পারে; উদাহরণ হিসেবে তিনি করপোরেট অফিসের বসের কথা টানেন, যার মনে হতে পারে অধীন কেউ তাকে ছাপিয়ে যাচ্ছেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, ‘বিএনপির সিদ্ধান্তটা ছিল আমার ক্যারিয়ার শেষ করে দেওয়ার।’ তার ধারণা, দল হয়তো তাকে আবার সংরক্ষিত আসনে জায়গা দিত কি না, তাও অনিশ্চিত ছিল; দিলেও সেখানেই আটকে রাখা হতো।
গত আট-নয় বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে কাজ করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এলাকার পালস না বুঝে কিংবা মানুষের সঙ্গে কথা না বলে তিনি পুরো ক্যারিয়ার বাজি রেখে মাঠে নামেননি।
উপস্থাপক মনে করিয়ে দেন, বহিষ্কারের পর রুমিন বলেছিলেন খালেদা জিয়ার দেওয়া লড়াইয়ের দায়িত্ব তিনি আমৃত্যু পালন করবেন; দলের স্বার্থ দেখাও কি সেই দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না? জবাবে তিনি বলেন, বিএনপিই তো বলে ব্যক্তির চেয়ে দল এবং দলের চেয়ে দেশ বড়; খালেদা জিয়ার কথা অনুযায়ী দেশের স্বার্থই আগে, আর তিনি সেটিই দেখছেন।
উল্লেখ্য, দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন রুমিন ফারহানা। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে জোটের প্রার্থীর বিপক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াকে শৃঙ্খলাভঙ্গ গণ্য করে ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর তাকে বহিষ্কার করে বিএনপি; দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।






