রাজনৈতিক দলগুলো যোগ্যতা বিচার করে প্রার্থী মনোনয়ন দেয় না বলে মনে করেন এনসিপির সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা। ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দেওয়া পোস্টে তিনি এমপিদের সম্পদ ও উপহারের তথ্য নিয়মিত প্রকাশে একটি রেজিস্টার চালুর প্রস্তাব দেন এবং এ উদ্যোগ নিতে স্পিকারকে আহ্বান জানান।
এর আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোলার তজুমদ্দিনে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোর সংবর্ধনায় স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের মন্তব্য ছিল, ভালো মানুষের ভোটে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই, সংসদে রাজনীতির উপযুক্ত পরিবেশও গড়ে ওঠেনি; তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি এমন থাকবে না।
পোস্টে তাসনিম জারা লেখেন, তিনি স্পিকারের সঙ্গে একমত; যোগ্যতা দেখে দল মনোনয়ন দেয় না, আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে প্রতি পদে হয়রানি সইতে হয়। তবে তার মতে, আক্ষেপ করা সাধারণ মানুষের কাজ; স্পিকারের সদিচ্ছা আছে বলে মনে হওয়ায় তিনি নিজের জায়গা থেকে বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারেন।
তাসনিম জারার দাবি, সংসদের প্রায় ৬০ শতাংশ সদস্য ব্যবসায়ী এবং প্রায় ৮০ শতাংশ কোটিপতি; এটি দোষের না হলেও অর্থের উৎস বৈধ কি না, তা জানা দরকার। তিনি লেখেন, অনেক এমপি নির্বাচিত হয়ে দামি গাড়ি, দামি ঘড়ি ও নতুন ফ্ল্যাটের জীবন শুরু করেন এবং প্রশ্ন উঠলে বলেন উপহার, অথচ কে কিসের বিনিময়ে দিল জানার উপায় নেই। কোনো ব্যবসায়ী গাড়ি দিলে এমপি তার পক্ষে সংসদে সরব হতে বা সরকারি দপ্তরে তদবির করতে পারেন, যদিও বেতন পান জনগণের টাকায়—এমন আশঙ্কাও জানান তিনি।
এ প্রবণতা ঠেকাতে তার প্রস্তাব, প্রত্যেক এমপি নিয়মিত নিজের সম্পদ, ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব, কার কাছ থেকে কী উপহার পেয়েছেন ও কার খরচে বিদেশ গেছেন তা জানাবেন এবং সে তথ্য অনলাইনে উন্মুক্ত থাকবে। এখন ভরসা কেবল পাঁচ বছরে একবারের নির্বাচনী হলফনামা, যা ঠিকমতো যাচাই হয় না; কয়েকজন এমপির হলফনামায় ভুল তথ্যের অভিযোগ উঠলেও নির্বাচন কমিশন ঘুমিয়ে আছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
যুক্তরাজ্যের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, সেখানে এমপিদের এমন তথ্য নিয়মিত দিতে হয়, কয়েক সপ্তাহ পরপর তা হালনাগাদ হয় এবং কয়েকশ পাউন্ডের বেশি মূল্যের উপহার বা সফরের হিসাব রাখতে হয়; বিদেশি সরকারের খরচে পরিবারসহ দুবার ছুটি কাটিয়ে রেজিস্টারে না লেখায় এক এমপি ত্রিশ দিনের জন্য সাসপেন্ড হয়েছিলেন। তার মতে, এমন রেজিস্টার সব দুর্নীতি থামাবে না, তবে কঠিন করবে, কারণ নিজের ঘোষণার বাইরে কিছু বেরোলে উপহারের অজুহাত আর টিকবে না।
স্পিকার সংসদের নিয়মকানুন-সংক্রান্ত কমিটির সভাপতি হওয়ায় নিয়ম প্রস্তাব করতে পারেন এবং সংসদ সচিবালয়কে দিয়ে তথ্য সংরক্ষণ ও প্রকাশ করাতে পারেন বলে মনে করেন তাসনিম জারা; হাত-পা বাঁধা থাকলেও অন্তত সচেতনতা তৈরি সম্ভব। ভোলা থেকে বারবার নির্বাচিত এমপি, সাবেক মন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধে বীর বিক্রম স্পিকারের উদ্দেশে তিনি লেখেন, ‘আশা করি এই সুযোগটা উনি কাজে লাগাবেন।’






