মালয়েশিয়ায় নোংরা, ঝুঁকিপূর্ণ ও কঠিন—অর্থাৎ ৩ডি—কাজের বাইরে বিদেশি কর্মী নিয়োগ সীমিত করার তাগিদ দিয়েছেন দেশটির বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী দাতুক সেরি জোহরি আবদুল গনি। গত সোমবার (২ নভেম্বর) মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ দেওয়ান রাকিয়াতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় ব্যবসা পরিচালনা করে আসা অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো বিদেশি শ্রমিকের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। দেশটির শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনায় এই নির্ভরশীলতা বড় ও জটিল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা মূলত ৩ডি খাতের কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা দরকার।
সরকারি হিসাবে মালয়েশিয়ায় বর্তমানে প্রায় ২৬ লাখ বিদেশি কর্মী রয়েছেন। মন্ত্রী জানান, দেশটির ত্রয়োদশ মালয়েশিয়া পরিকল্পনা (১৩এমপি) অনুযায়ী বিদেশি কর্মীর সংখ্যা পর্যায়ক্রমে কমে আসার কথা থাকলেও বাস্তবে তা ঘটেনি। ১০ থেকে ২০ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় কার্যক্রম চালানো অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের চাহিদা জানিয়ে আসছে; ফলে নির্ভরশীলতা কমানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ছে।
‘অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান বিদেশি শ্রমিকনির্ভর’
জোহরি আবদুল গনি বলেন, মালয়েশিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করা অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই বিদেশি শ্রমিকনির্ভরতা বজায় রেখেছে, যা ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সমস্যা’। এ কারণে বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা নোংরা, ঝুঁকিপূর্ণ ও কঠিন কাজের মধ্যেই সীমিত রাখার ওপর তিনি জোর দেন।
বাকরি আসনের সংসদ সদস্য তান হং পিনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তান হং পিন উল্লেখ করেন, দেশটির অনেক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়েছে; তবে উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখতে এখনো কিছু অদক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজন হয়, যাদের অধিকাংশই বিদেশি নাগরিক।
কারখানা সরানোর পরামর্শ নিয়ে উদ্বেগ
সংসদ সদস্য তান হং পিন অভিযোগ করেন, বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের আবেদন করা অনেক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে কম খরচে শ্রমিক পেতে ইন্দোনেশিয়া বা ভিয়েতনামে কারখানা স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, এ ধরনের পরামর্শ মালয়েশিয়ার শিল্প ও বিনিয়োগ খাতের জন্য নেতিবাচক বার্তা বহন করে এবং এতে কারখানা ও উদ্যোক্তারা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তিনি আরও জানতে চান, বিভিন্ন শিল্প খাতে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার কতটা সম্প্রসারিত হয়েছে তা মূল্যায়নে মন্ত্রণালয় কোনো উদ্যোগ নেবে কি না। পাশাপাশি যেসব প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করেও প্রয়োজনীয় শ্রমিকের চাহিদা মেটাতে পারছে না, তাদের ক্ষেত্রে বিদেশি কর্মী নিয়োগ নীতিতে আরও নমনীয়তা আনা হবে কি না, সে বিষয়েও তিনি মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সেপ্টেম্বরের নির্দেশনা
এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর জোহরি আবদুল গনি জানিয়েছিলেন, বিদেশি কর্মী নিয়োগের আবেদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে কেন তাদের ৩ডি কাজের জন্য বিদেশি শ্রমিক প্রয়োজন। এছাড়া ৩ডি খাতের বাইরে অন্য কোনো পদে বিদেশি কর্মী নিয়োগের আবেদন করা হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে প্রস্তাবিত বেতন এবং ওই পদে নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম শিক্ষাগত বা পেশাগত যোগ্যতার বিবরণ দিতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বাস্তব শ্রমিক চাহিদা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং উৎপাদন ব্যয় বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। অন্যথায় শ্রমিক সংকটের কারণে মালয়েশিয়ার উৎপাদন ও বিনিয়োগ খাত প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
Source: জাগো নিউজ২৪






