মার্কিন সংগীতশিল্পী এলভিস প্রিসলির রেকর্ড করা ২৭৪টি গান কোনো অনুমতি বা লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল ক্লড প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে এআই নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের বিরুদ্ধে কপিরাইট মামলা হয়েছে। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে মামলাটি করা হয়। খবর দিয়েছে প্রবাসী ভাইয়ের সহযোগী সংবাদমাধ্যম, তথ্যসূত্র জাগো নিউজ বিনোদন।

মামলাটি করেছে অথেনটিক ব্র্যান্ডস গ্রুপের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। ২০১৩ সালে প্রিসলির মেধাস্বত্ব ও ট্রেডমার্ক-সংক্রান্ত কপিরাইট মালিকানা কিনে নেয় এই প্রতিষ্ঠান। মামলার বিবরণ তুলে ধরেছে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

বাদীপক্ষে যারা

মামলার বাদীদের মধ্যে রয়েছে সংগীত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান র‍্যালি মিউজিক পাবলিশিং ও অ্যাবিলিন মিউজিক। এ ছাড়া রয়েছেন গীতিকার লুইজি ক্রিয়েটোরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ট্রাস্ট এবং অ্যাবারবাখ পরিবারের সঙ্গে যুক্ত পক্ষগুলো। অ্যাবারবাখ পরিবারের প্রকাশনা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণে ছিল প্রিসলির গাওয়া বিভিন্ন গানের কপিরাইট।

যে অভিযোগ করা হয়েছে

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গানগুলোর কোনো লাইসেন্স নেয়নি এবং এর জন্য কোনো অর্থও পরিশোধ করেনি অ্যানথ্রোপিক। শুধু তা-ই নয়, ভবিষ্যতে ক্লড এআইয়ের নতুন সংস্করণ প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহারের জন্য গানগুলো প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ তথ্যভান্ডারেও সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে যে গানগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ক্যান্ট হেল্প ফলিং ইন লাভ’, ‘অল শুক আপ’, ‘ডোন্ট বি ক্রুয়েল’, ‘এ লিটল লেস কনভারসেশন’ এবং ‘রিটার্ন টু সেন্ডার’।

ক্ষতিপূরণের দাবি

মামলায় প্রতিটি গানের কথিত স্বত্ব লঙ্ঘনের জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার করে ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে। ২৭৪টি গানের হিসাবে এই অঙ্ক দাঁড়ায় ৪ কোটি ১১ লাখ ডলারে। অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণসহ বাদীদের মোট দাবির পরিমাণ ৪ কোটি ৮৬ লাখ ডলার।

বাদীপক্ষের প্রধান আইনজীবী রিচার্ড বুশ অভিযোগ করেছেন, কপিরাইট লঙ্ঘনের ওপর ভিত্তি করে নিজেদের ব্যবসা গড়ে তুলছে অ্যানথ্রোপিক। তিনি জানান, গানগুলোর স্বত্ব রক্ষায় বাদীরা ‘প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’।

অভিযোগ অস্বীকার

তবে অভিযোগটি অস্বীকার করেছে অ্যানথ্রোপিক। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম এনবিসি নিউজকে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, তারা এসব অভিযোগের সঙ্গে একমত নন এবং মামলায় নিজেদের অবস্থান পূর্ণাঙ্গভাবে তুলে ধরবেন।

এআই নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সংগীতশিল্পী ও স্বত্বাধিকারীদের কপিরাইটবিষয়ক বিরোধ সাম্প্রতিক সময়ে ক্রমেই বাড়ছে। প্রিসলির গান নিয়ে হওয়া এই মামলার রায় কপিরাইট-সুরক্ষিত সংগীত ব্যবহার করে এআই মডেল প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে আরও বিস্তৃত প্রভাব ফেলতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Source: জাগো নিউজ২৪