বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের উৎসাহ ধরে রাখতে আড়াই শতাংশ নগদ প্রণোদনা চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবগঠিত বিএনপি সরকার। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বাজেট অধিবেশনে দেওয়া বক্তৃতায় বিষয়টি জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরের মাসেই প্রবাসী আয় ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলারে ওঠে, যা দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ। তাঁর মতে, এই প্রবাহ গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি প্রবাসীদের আস্থার প্রতিফলন, আর ধারাটি অব্যাহত থাকবে বলে সরকার আশা করছে।

প্রবাসীদের সামগ্রিক কল্যাণে একটি বিশেষ প্রবাসী কার্ড চালুর কথা জানান তিনি, যার সঙ্গে কল্যাণসেবা, বিমা, ব্যাংকিং সুবিধা ও জরুরি সহায়তা যুক্ত থাকবে। বৈদেশিক কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং প্রবাসী জনশক্তির সুরক্ষাকে সরকার বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।

আমির খসরু জানান, বিকল্প শ্রমবাজার হিসেবে রাশিয়া, পর্তুগাল, রোমানিয়া, ব্রাজিল, গ্রিস, সার্বিয়া ও নর্থ মেসিডোনিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও কুয়েতের শ্রমবাজার আবার খোলার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

দেশ-বিদেশের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী পেশাভিত্তিক দক্ষতা বাড়াতে বড় পরিকল্পনা নিচ্ছে সরকার। বিদেশে চাহিদা বেশি এমন খাতের জন্য আলাদা কোর্স ও পাঠ্যক্রম চালুর কাজ শুরু হয়েছে এবং প্রশিক্ষণ, কারিকুলাম, সার্টিফিকেশন, অ্যাক্রেডিটেশন ও মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

দেশের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী জানান, প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় সরকারি এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষায় বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০২৬ জারি হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে নারীর প্রতি সহিংসতা ও যৌন হয়রানিতে শূন্য সহনশীলতা, নারী পরিচালিত পিঙ্ক বাস সার্ভিস এবং শিশুশ্রম বন্ধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০২৬-২০৩০-এর খসড়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি।