মসজিদে ইশার ফরজ নামাজ শেষে একজন মুসল্লি দাঁড়িয়ে উচ্চৈস্বরে তালিমের ঘোষণা দেন, এতে অনেক মুসল্লি বিরক্ত হচ্ছেন—এমন পরিস্থিতিতে ওই ঘোষণার শরিয়তগত বিধান জানতে চাওয়া হয়েছে একটি ধর্মীয় প্রশ্নোত্তরে। প্রশ্নে বলা হয়, ওই মসজিদে ইশার নামাজের পর তালিম হয় এবং ইমাম ফরজ নামাজ শেষ করার পর একজন মুসল্লি উঁচু স্বরে তালিমের ঘোষণা দেন।
জবাবে বলা হয়েছে, তালিমের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ামাত্র স্বাভাবিক ও সংক্ষিপ্ত ঘোষণা হলে এবং এতে নামাজরত কিংবা জিকিরে মগ্ন মুসল্লিদের বিরক্তি না জন্মালে তা সাধারণভাবে জায়েজ। কিন্তু ওই ঘোষণার কারণে মাসবুক মুসল্লিদের নামাজে কিংবা অন্য মুসল্লিদের জিকিরে ব্যাঘাত ঘটলে তা পরিহার করা উচিত।
ফতোয়ার সমর্থনে ইবনে আবেদীন শামী (রহ.)-এর ‘রাদ্দুল মুহতার’-এর বরাত দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমরা মসজিদসহ অন্য স্থানে সম্মিলিতভাবে জিকির করাকে মুস্তাহাব বলেছেন; তবে তাঁদের উচ্চৈস্বরে জিকিরের কারণে ঘুমন্ত ব্যক্তি, নামাজ আদায়কারী কিংবা কুরআন তিলাওয়াতকারীর অসুবিধা হলে তা ব্যতিক্রম।
জবাবে আরও বলা হয়েছে, মসজিদ যেহেতু সব মুসলমানের নামাজ ও জিকিরের জায়গা, তাই উচ্চৈস্বরে জিকিরের কারণে অন্যদের সমস্যা হলে উচ্চৈস্বরে জিকির থেকেও বিরত থাকতে হবে। ফলে তালিমের ঘোষণায় মুসল্লিদের নামাজ ও জিকিরের মনোযোগে বিঘ্ন ঘটলে বা তাঁরা বিরক্ত হলে বিষয়টিকে তুচ্ছ মনে করার সুযোগ নেই।
এ পরিস্থিতিতে সব মুসল্লির সঙ্গে আলোচনা করে তালিমের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার এমন বিকল্প উপায় খুঁজে বের করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে কেউ বিরক্ত না হন।
Source: জাগো নিউজ২৪




