প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি বা কারও সামাজিক অবস্থান রক্ষার চেয়ে শিশুর সুরক্ষা ও নির্যাতনের অভিযোগের বিচারকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাগো নিউজ প্রবাসে প্রকাশিত একটি মতামতধর্মী লেখা। এতে বলা হয়েছে, ধর্মীয় পরিচয় কাউকে জবাবদিহির বাইরে রাখে না; অভিযোগ বিবেচনার ক্ষেত্রে ব্যক্তির পরিচয়ের বদলে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অপরাধের বিষয়টিই মুখ্য হওয়া দরকার।
লেখাটিতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি সামনে আসা অভিযোগের প্রসঙ্গ তোলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, কিছু মাদ্রাসাশিক্ষক ও ধর্মীয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে শিশু, কিশোর-কিশোরী এবং বিভিন্ন বয়সের নারীকে যৌন হয়রানি, ধর্ষণ ও অন্য অনৈতিক আচরণের অভিযোগ উঠছে। এসব অভিযোগ সত্য হলে সেগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অপরাধের পাশাপাশি বৃহত্তর সমাজের জন্যও উদ্বেগের কারণ বলে লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সরবরাহ করা লেখায় কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা, অভিযুক্ত ব্যক্তি, অভিযোগের তারিখ কিংবা তদন্তের তথ্য দেওয়া হয়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কেও কোনো সিদ্ধান্ত উল্লেখ করা হয়নি।
পরিচয় নয়, আচরণে মূল্যায়ন
লেখাটিতে বলা হয়েছে, অভিভাবকেরা ধর্মীয় জ্ঞান ও নৈতিক শিক্ষা অর্জনের প্রত্যাশায় সন্তানদের শিক্ষকদের কাছে পাঠান। সেই দায়িত্বে থাকা কারও বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতন বা যৌন অপরাধের অভিযোগ উঠলে নৈতিক শিক্ষার অবস্থা এবং ধর্মীয় পরিচয়ের অপব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। সামাজিক অবক্ষয়ের সঙ্গে এ ধরনের আচরণের সম্পর্ক আছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে।
এর যুক্তি হিসেবে লেখাটিতে বলা হয়েছে, ধর্মের শিক্ষা সততা, আত্মসংযম, ন্যায় ও মানুষের প্রতি সহমর্মিতার। ফলে ধর্মীয় বাণী প্রচারকারী কেউ শিশু বা নারীর ওপর যৌন নির্যাতনে জড়ালে তা ওই শিক্ষারই বিরোধিতা করে।
দাড়ি, টুপি, পোশাক কিংবা হুজুর হিসেবে পরিচিত হওয়াকে সচ্চরিত্রের নিশ্চয়তা হিসেবে না দেখার কথাও বলা হয়েছে। লেখাটির বক্তব্য, একজন মানুষকে মূল্যায়ন করতে হবে তাঁর কাজ এবং অন্যের সঙ্গে আচরণের ভিত্তিতে; ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তাঁর সব আচরণ গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না।
নীরবতার ঝুঁকি
লেখাটিতে অভিযোগ করা হয়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সামাজিক সম্মান, ধর্মীয় অনুভূতি বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষার যুক্তি দিয়ে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ প্রকাশে বাধা দেওয়ার চেষ্টা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, শিশুরা ভয় পেয়ে অভিজ্ঞতার কথা বলতে পারে না; পরিবারও লোকলজ্জার আশঙ্কায় অভিযোগ জানাতে দ্বিধায় পড়ে।
এমন নীরবতার সুযোগে অপরাধে জড়িত ব্যক্তিরা শাস্তি এড়িয়ে গেলে অন্য শিশুরাও পরবর্তী সময়ে ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের সঙ্গে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের বাস্তব চর্চা সমানভাবে এগোচ্ছে কি না, তা নিয়েও ভাবতে বলা হয়েছে।
সব শিক্ষককে দায়ী নয়
একই সঙ্গে সব মাদ্রাসাশিক্ষক ও আলেমকে একভাবে বিচার না করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। লেখাটিতে স্বীকার করা হয়েছে, অনেক আলেম ও শিক্ষক আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তাঁদের সম্মান অক্ষুণ্ন রাখার যুক্তিতে কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সুরক্ষা দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
শিশুর নিরাপত্তাকে ধর্মীয় মতবিরোধের বিষয় হিসেবে না দেখে মৌলিক অধিকার এবং মানুষের দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনার আহ্বান রয়েছে লেখাটিতে। শিশু ও কিশোর-কিশোরীর প্রতি যৌন নির্যাতন বা জবরদস্তিমূলক কোনো আচরণই মেনে নেওয়া যায় না বলে এতে অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।
লেখাটির বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের অপরাধের প্রতিবাদকে ধর্মের বিরোধিতা হিসেবে দেখা ঠিক নয়। একইভাবে প্রশ্ন তোলার লক্ষ্য সব আলেম নন; বরং যাঁরা ধর্মীয় পরিচয়কে অপব্যবহার করেন, তাঁদের আচরণ নিয়ে জবাবদিহি চাওয়া।
শেষাংশে প্রতিষ্ঠানের সুনামের জন্য শিশুর কষ্টকে আড়াল না করা এবং সামাজিক মর্যাদার কারণে ন্যায়বিচারকে গৌণ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, অভিযোগ ঘিরে নীরবতা দূর করা এবং অপরাধের প্রতিবাদে এগিয়ে আসার কথাও বলা হয়েছে।
Source: জাগো নিউজ২৪





